ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী, বোর্ডভিত্তিক সংখ্যা কত Logo দেশের বর্তমান গ্যাস মজুত দিয়ে আগামী ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভবঃ জ্বালানিমন্ত্রী Logo কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবারও ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন Logo কুমিল্লা চান্দিনায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা, পথচারী নিহত Logo বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩ Logo বরিশালে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজের ঢালাই নিয়ে তোলপাড় Logo রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের চল্লিশ কাহনিয়া উত্তমপুর দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠিত Logo বনানীর একটি বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট Logo গাজীপুরে তরুণদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান Logo ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদারে গাকৃবিতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের বড় পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য কী?

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। সোমবার ।। ১৬.০২.২০২৬ ।।

ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে অতি সরু এক স্থলপথ— যা ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর নামে পরিচিত। এই কৌশলগত এলাকাতেই মাটির নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ কেটে নতুন রেললাইন বসানোর পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ দিয়েও দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ নির্মাণে অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিনমাইলহাট থেকে শিলিগুড়ি হয়ে রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরি হবে। উত্তর–পূর্ব রেলের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের খসড়া প্রস্তুত থাকলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বাজেট–পরবর্তী ব্রিফিংয়ে প্রথম এ প্রকল্পের কথা প্রকাশ করেন।

ভূ–কৌশলগত দিক থেকে করিডরটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর প্রস্থ গড়ে মাত্র ২০ কিলোমিটার। এক পাশে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন এবং পশ্চিমে নেপাল— তিন আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি এই পথই উত্তর–পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলযোগাযোগ। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম চলাচলেও এই করিডর ব্যবহৃত হয়। তাই নতুন ভূগর্ভস্থ রেলপথকে বিশেষজ্ঞরা বড় কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখছেন।

প্রস্তাবিত রেলপথটি দুইটি সমান্তরাল সুড়ঙ্গ দিয়ে নির্মাণ করা হবে এবং বাগডোগরা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। ইতোমধ্যে যে দ্বৈত রেললাইন রয়েছে, সেটিকেও চার লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারত যে নতুন তিনটি সামরিক ঘাঁটি গড়ছে— কিশানগঞ্জ, চোপড়া ও ধুবড়ি— তার দুটির কাছ দিয়েই এই লাইন যাবে।

রেল কর্তৃপক্ষের মতে, করিডরটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। মোটা কংক্রিটে নির্মিত সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রয়োজন হলে সেনা, অস্ত্র ও ত্রাণ দ্রুত পরিবহন করা সম্ভব হবে। কাছেই বাগডোগরা বিমানঘাঁটি ও সেনাছাউনি থাকায় রেল–বিমান সমন্বয়েও সুবিধা মিলবে। প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপি।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শিলিগুড়ি করিডর দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে। ভূগর্ভস্থ রেলপথ চালু হলে শত্রুপক্ষের হামলায় ওপরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যোগাযোগ বন্ধ হবে না।

এদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি আসামে ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল–সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। গোহপুর ও নুমালিগড়কে যুক্ত করা এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। মোট প্রকল্প দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩.৭ কিলোমিটার, যার বড় অংশই নদীর নিচে নির্মিত হবে।

সরকার বলছে, নতুন যোগাযোগব্যবস্থা আঞ্চলিক অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হবে। তেজপুর বিমানঘাঁটি ও অরুণাচলের সংযোগও শক্তিশালী হবে, যা চীন সীমান্তের কৌশলগত ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস :

বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের বড় পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য কী?

আপডেট সময় : ০৩:১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। সোমবার ।। ১৬.০২.২০২৬ ।।

ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে অতি সরু এক স্থলপথ— যা ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর নামে পরিচিত। এই কৌশলগত এলাকাতেই মাটির নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ কেটে নতুন রেললাইন বসানোর পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ দিয়েও দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ নির্মাণে অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিনমাইলহাট থেকে শিলিগুড়ি হয়ে রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরি হবে। উত্তর–পূর্ব রেলের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের খসড়া প্রস্তুত থাকলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বাজেট–পরবর্তী ব্রিফিংয়ে প্রথম এ প্রকল্পের কথা প্রকাশ করেন।

ভূ–কৌশলগত দিক থেকে করিডরটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর প্রস্থ গড়ে মাত্র ২০ কিলোমিটার। এক পাশে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন এবং পশ্চিমে নেপাল— তিন আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি এই পথই উত্তর–পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলযোগাযোগ। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম চলাচলেও এই করিডর ব্যবহৃত হয়। তাই নতুন ভূগর্ভস্থ রেলপথকে বিশেষজ্ঞরা বড় কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখছেন।

প্রস্তাবিত রেলপথটি দুইটি সমান্তরাল সুড়ঙ্গ দিয়ে নির্মাণ করা হবে এবং বাগডোগরা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। ইতোমধ্যে যে দ্বৈত রেললাইন রয়েছে, সেটিকেও চার লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারত যে নতুন তিনটি সামরিক ঘাঁটি গড়ছে— কিশানগঞ্জ, চোপড়া ও ধুবড়ি— তার দুটির কাছ দিয়েই এই লাইন যাবে।

রেল কর্তৃপক্ষের মতে, করিডরটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। মোটা কংক্রিটে নির্মিত সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রয়োজন হলে সেনা, অস্ত্র ও ত্রাণ দ্রুত পরিবহন করা সম্ভব হবে। কাছেই বাগডোগরা বিমানঘাঁটি ও সেনাছাউনি থাকায় রেল–বিমান সমন্বয়েও সুবিধা মিলবে। প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপি।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শিলিগুড়ি করিডর দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে। ভূগর্ভস্থ রেলপথ চালু হলে শত্রুপক্ষের হামলায় ওপরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যোগাযোগ বন্ধ হবে না।

এদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি আসামে ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল–সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। গোহপুর ও নুমালিগড়কে যুক্ত করা এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। মোট প্রকল্প দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩.৭ কিলোমিটার, যার বড় অংশই নদীর নিচে নির্মিত হবে।

সরকার বলছে, নতুন যোগাযোগব্যবস্থা আঞ্চলিক অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হবে। তেজপুর বিমানঘাঁটি ও অরুণাচলের সংযোগও শক্তিশালী হবে, যা চীন সীমান্তের কৌশলগত ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।