ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের নিন্দা ও প্রতিবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেশের গণতন্ত্র-মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪ ৩৭ বার পঠিত

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরাম নেতৃবৃন্দ। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, অলিখিত এই নিষেধাজ্ঞা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের পরিপন্থী।

২৩ মে বৃহষ্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সম্পাদক ফোরাম নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারছেন না বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার কারণে সাংবাদিকদের ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশের অস্থায়ী পাস ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে। অর্থনীতিবিষয়ক রিপোর্টিংয়ের সাথে যুক্ত সাংবাদিকরা এবং গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন বিষয়টির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিকার হয়নি। এমনকি এর প্রতিবাদে গত বুধবার (৮ মে) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকরা বয়কট করলেও এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি, যা রীতিমত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হকের গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্য সম্পাদক ফোরামের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ওই মুখপাত্র বলেছেন, এখন থেকে সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দিষ্ট অনুমতিপত্র (প্রবেশ পাস) নিয়ে শুধু মুখপাত্রের কাছে যেতে পারবেন। কোনো কর্মকর্তা যদি সাংবাদিকদের পাস দেন, সেক্ষেত্রে শুধু সেই কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যাবে। তবে আগের মতো সাংবাদিকরা অবাধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো বিভাগে প্রবেশ করতে পারবেন না।

সম্পাদক ফোরাম নেতৃবৃন্দ মনে করে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের নামান্তর। এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক খাত তথা দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে দেশের জনগণ। ফলে এ খাত নিয়ে জনমনে অনাস্থার সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে যা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করবে।

দ্রুততার সঙ্গে সাংবাদিকদের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে সম্পাদক ফোরাম নেতারা বলেন, যেকোনো দেশের অর্থনীতি ও গণমানুষের আস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। টেকসই ব্যাংক খাত বিনির্মাণ এবং দেশের আর্থিক খাতের ওপর জনগণের আস্থাকে সুদৃঢ় করতে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের প্রবেশে তাদের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তথ্যের সুষ্ঠু আদান-প্রদান এবং গণমাধ্যম কর্মীদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবেন বলে আমরা আশা করছেন তারা।

বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের নিন্দা ও প্রতিবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেশের গণতন্ত্র-মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরাম নেতৃবৃন্দ। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, অলিখিত এই নিষেধাজ্ঞা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের পরিপন্থী।

২৩ মে বৃহষ্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সম্পাদক ফোরাম নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারছেন না বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার কারণে সাংবাদিকদের ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশের অস্থায়ী পাস ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে। অর্থনীতিবিষয়ক রিপোর্টিংয়ের সাথে যুক্ত সাংবাদিকরা এবং গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন বিষয়টির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিকার হয়নি। এমনকি এর প্রতিবাদে গত বুধবার (৮ মে) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকরা বয়কট করলেও এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি, যা রীতিমত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হকের গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্য সম্পাদক ফোরামের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ওই মুখপাত্র বলেছেন, এখন থেকে সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দিষ্ট অনুমতিপত্র (প্রবেশ পাস) নিয়ে শুধু মুখপাত্রের কাছে যেতে পারবেন। কোনো কর্মকর্তা যদি সাংবাদিকদের পাস দেন, সেক্ষেত্রে শুধু সেই কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যাবে। তবে আগের মতো সাংবাদিকরা অবাধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো বিভাগে প্রবেশ করতে পারবেন না।

সম্পাদক ফোরাম নেতৃবৃন্দ মনে করে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের নামান্তর। এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক খাত তথা দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে দেশের জনগণ। ফলে এ খাত নিয়ে জনমনে অনাস্থার সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে যা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করবে।

দ্রুততার সঙ্গে সাংবাদিকদের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে সম্পাদক ফোরাম নেতারা বলেন, যেকোনো দেশের অর্থনীতি ও গণমানুষের আস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। টেকসই ব্যাংক খাত বিনির্মাণ এবং দেশের আর্থিক খাতের ওপর জনগণের আস্থাকে সুদৃঢ় করতে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের প্রবেশে তাদের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তথ্যের সুষ্ঠু আদান-প্রদান এবং গণমাধ্যম কর্মীদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবেন বলে আমরা আশা করছেন তারা।