মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা
বঙ্গবন্ধুসহ নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টি ঠিক নয়
- আপডেট সময় : ০২:২২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫ ১৯৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ কণ্ঠ ।।
বঙ্গবন্ধুসহ নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল, এসব নেতার পরিচয় ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে নির্ধারণ করার বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। বুধবার (৪ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে মঙ্গলবার রাতে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ সূত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী, এএইচএম কামারুজ্জামানসহ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী চার শতাধিক রাজনীতিবিদের (এমএনএ-এমপিএ) মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। উপদেষ্টা জানান, অধ্যাদেশে মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুসহ মুজিবনগর সরকারের অন্যদের মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা বাতিলের বিষয়ে যা বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়।
তিনি বলেন, অধ্যাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে। এটাকে ইতিহা ভিত্তিক করা হয়েছে। যারা সশস্ত্রভাবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন এবং এই যুদ্ধ যারা পরিচালনা করেছেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা হবেন। মুক্তিযুদ্ধকে সফল করার জন্য যারা দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে সহযোগিতা করেছেন, কাজ করেছেন, যারা সশস্ত্র ছিলেন না, তারা মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন। শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিলের যে কথাটি বলা হচ্ছে, সেটি সঠিক নয়। সঠিক নয় এই অর্থে যে এখানে (অধ্যাদেশে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায়) সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার যেটা মুজিবনগর সরকার এবং এ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনী তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা হবেন। তার মানে মুজিবনগর সরকার নিজে এবং তার দ্বারা স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনীর যারা সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা হবেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, তাহলে মুজিবনগর সরকারের মধ্যে কে ছিলেন? শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, মনসুর আলী, কামারুজ্জামান ও খন্দকার মুস্তাক সাহেব ছিলেন। এরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। ফারুক ই আজম বলেন, এই যুদ্ধটা এ সরকার (মুজিবনগর সরকার) পরিচালনা করেছে, এই সরকারের লেজিটিম্যাসির (বৈধতা) বাইরে কাউকে স্বীকৃতিই দেওয়া হয়নি। এই সরকারটাই ছিল তখন স্বীকৃত সরকার।
আবার অর্থটা এমন দাঁড়ায় কি না, এই সরকার হয়তো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করলো, কিন্তু তারা তো সরাসরি রণাঙ্গনে অংশ নেয়নি- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এটা হয়নি। কারণ রণাঙ্গন ওনারা পরিচালনা করেছেন। তাহলে তো একই কথা আপনি সেক্টর কমান্ডারদের ক্ষেত্রেও বলতে পারেন। তাহলে তারা কি যুদ্ধ করেনি? যুদ্ধ ডিজাইন করেছেন, যুদ্ধে কারা যাবে, না যাবে- পরিচালনা করেছেন। ঠিক একইভাবে তো মুজিবনগর সরকার তো পুরো যুদ্ধটা পরিচালনা করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রেশন কোথা থেকে আসবে, অস্ত্র কোথা থেকে আসবে- এগুলো ওই সরকার (মুজিবনগর সরকার) করেছে না? এটাতো ঐতিহাসিক সত্য যে এ সরকার পুরো যুদ্ধটা পরিচালনা করেছে। কেমন করে এই ইতিহাস পরিবর্তন করা যায়। তিনি আরও জানান, শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিলের সংবাদটি মিসলিডিং হয়েছে, এটি সত্য হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীর সংজ্ঞায়ও মুজিবনগর সরকারের বিষয়টি এসেছে, এ বিষয়ে ফারুক ই আজম বলেন, ওটা মুজিবনগরের কর্মচারীরা। মুজিবনগর সরকারের অধীনে যে সকল বেতনধারী কর্মচারীরা ছিলেন, তাদেরকে বলা হয়েছে সহযোগী, সরকারকে বলা হয়নি। পিএমএ (মেম্বার অফ প্রুভিন্সিয়াল অ্যাসেম্বলি) ও এমএনএ-দের (মেম্বার অব ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) মধ্যে যারা সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা। সর্বাঙ্গীনভাবে এটাকে মর্যাদাবান করা হয়েছে।অধ্যাদেশে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সুস্পষ্ট জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, অধ্যাদেশ করার আগে যাচাই হয়েছে, ভেটিং হয়েছে অনেক কিছু হয়েছে। আপনি যদি টুইস্ট করতে চান করতে পারেন। এটা তো অল টুগেদার ডিফারেন্ট জিনিস। আমরা ইতিহাস চেষ্টা করছি মুক্তিযুদ্ধটা যাতে কেউ বিতর্কিত না করতে পারে।









