ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ফারহানা তালুকদার পুতুল এর ছোট গল্পঃ ফেরা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫ ১০৭৯ বার পঠিত

বাংলাদেশ কণ্ঠ ।।

চরম বিরক্তি নিয়ে বের হয়ে এলো মুগ্ধতা। একহাতে প্রত্যূষ,আর অন্য হাতে বোর্ডিং পাস নিয়ে।

স্নিগ্ধা প্রত্যূষকে কোলে নিতে নিতে জানতে চাইল,
বোর্ডিং পাস তো হাতেই , তাহলে এত বিরক্ত কেন মামনি??

আর বলো না মা,ফ্লাইট নাকি ডিলে হবে দুই ঘণ্টা। বলতো কেমন টা লাগে??!! ওদিকে প্রতুল তো আমাদের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে!!!! বেচারা একা একা কি খাচ্ছে না খাচ্ছে!!! ধুর!!!

প্রতুলকে এখনি মেসেজ করে দেও ,যে ফ্লাইট ডিলে হবে, তাহলেই তো ওৎআর অপেক্ষা করে বসে থাকবে না।এত টেনশন এর কি আছে!!

না মা তুমি বুঝতে পারছ না, অনেক বিরক্ত লাগছে।
ছটফট করছে মুগ্ধতা। মা এর কোল থেকে প্রত্যূষ কে কোলে তুলে নিয়ে বলল,
যাই ওকে টয়লেট করিয়ে আনি।বোঝাই যাচ্ছে ইমিগ্রেশনেও দেরি হবে এখন।

আচ্ছা যাও। আমি আছি এখানে।

স্নিগ্ধা মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাসলো। এই তো একুশ দিন আগে মুগ্ধতা LA থেকে দেশে ফিরল, এসে ই বলল, আর ফিরে যাব না মা প্রতুল এর কাছে। বোরিং একটা মানুষ। অগোছালো।ড্রেসিং সেন্স নেই। যাচ্ছে তাই।জানো মা, বাবার মতো প্রতুলকে ও টাই সিলেক্ট করে দিতে হয়, না হলে হাতে শার্ট নিয়ে বসে থাকে। আমি কিচেন সামলাবো, প্রত্যূষকে সামলাবো, না টাই খুঁজব???বল মা??
আমাকে ও তো বের হতে হয় অফিসে, নাকি!!!!!!

স্নিগ্ধা বুঝল, মেয়ে প্রতুল এর সাথে রাগ করে চলে এসেছে দেশে। স্নিগ্ধা মনে মনে ভাবলো, ভালো ই হয়েছে। কদিন মেয়ে টা কে কাছে পাবে স্নিগ্ধা। শান্তোর ও সময় কাটবে নাতিকে নিয়ে।
একমাত্র ছেলে স্বরুপ টরেন্টো তে চলে যাওয়ার পর থেকে, শান্ত আর স্নিগ্ধা একা হয়ে গেছে যেন। সময় যেন কাটে না বুড়ো বুড়ির। স্নিগ্ধা তার শখের গাছের পরিচর্যা করে সময় কাটায়,আর শান্ত ইংলিশ মুভি দেখে দেখে।
বিয়াল্লিশ বছর আগে যৌথ পরিবারে বৌ হয়ে এবাড়িতে এসেছিল স্নিগ্ধা। শশুর শাশুড়ি দেবর ননদ জা সবাই ছিল একসময়। এরপর এক এক করে নিজের পছন্দ মত,যে যার গন্তব্যে চলে গেছে। শান্ত তখন অনেক ব্যাস্ত সময় পার করত। প্রয়োজন ছাড়া স্নিগ্ধার সাথে কথা বলার ও সময় পেত না শান্ত।
অন্যদিকে স্নিগ্ধা অপেক্ষার প্রহর গুনত, শান্তর কখন সময় হবে সেই মুহূর্তের জন্য। বন্ধু রুপে কোল জুড়ে এলো মুগ্ধতা। স্নিগ্ধা তার ধ্যান জ্ঞান উজাড় করে দিল কন্যার জন্য।
শান্ত নিজেকে নিয়ে তার প্রিয়জনদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতো, মুগ্ধতা কে দেখার সময় পেত না।

কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই স্নিগ্ধার, শুধু ই যেন বোঝাপড়া নিজের সাথে।
কিছুদিন পর এলো স্বরুপ। মুগ্ধতা আর স্বরুপ সম্পূর্ণ দখল করে নিল স্নিগ্ধার জীবন গাঁথা।
বাবা হিসেবে শান্ত বরাবরই দায়িত্বশীল । শুধু স্নিগ্ধার বেলাতেই সে বড্ড উদাসীন।
মুগ্ধতা ফিরে এসেছে প্রত্যূষ কে নিয়ে টয়লেট থেকে।
ছেলে টা দিন কে দিন দুষ্টু হয়ে যাচ্ছে মা। আচ্ছা মা, বাবা কোথায়? বাবাকে দেখছি না কেন?

স্নিগ্ধা হাত উঁচিয়ে দূরে দেখালো,
শান্ত অন্য এক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে গল্প করছে।

মুগ্ধতা বলল, তোমাকে এখানে একা রেখে বাবা ওদের সাথে বসে আছে কেন??
স্নিগ্ধা বলল, আমি বেশ আছি,ওনাকে ওনার মতো থাকতে দেও।

না না থাকবে কেন? চিরকাল বাবা কে ছাড় দিয়ে এসেছো,আর না।রাখো আমি ফোন করে বাবাকে ডাকি।
স্নিগ্ধা মেয়ে কে থামিয়ে দিলেন।
কিন্তু ততক্ষণে শান্তর কাছে কল চলে গেছে।মা মেয়ে কেউ সেটা লক্ষ্য করেনি।

মুগ্ধতা মা এর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, সত্যি করে একটা কথা বলবে মা??

কি জানতে চাও?

বাবা তো তোমাকে কখনই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি, তবু তুমি বাবাকে ছেড়ে চলে যাওনি কেন মা???

স্নিগ্ধা হেসে বলল,আজ তুমি যে কারণে প্রতুল এর কাছে ফিরে যাচ্ছো, সেই কারণেই যাওয়া হয় নি আমার। আমার কেন বলছি, খুব কম মেয়ে ই পারে সব কিছু ছিন্ন করে চলে যেতে। সবাই পারে না। কাউকে কখনো একা করে দিতে নেই,যে একাকিত্ব সহ্য করার ক্ষমতা তোমার নিজের ই নেই।

আসলে সংসারে দুটো মানুষ যখন একসাথে একি ছাদের নিচে বসবাস শুরু করে, তখন তাদের মধ্যে সম্পর্ক টা তৈরি হয় একটা নিত্য অভ্যাসের মধ্যে দিয়ে। সেখানে ভালোবাসার পরিমাণ টা থাকে আপেক্ষিক।আর অভিযোগ গুলো হয়ে যায় নিঃস্প্রাণ।

মা, যদি বলি দোষ টা তোমার ই, তুমি বাবাকে কখনো ই তোমার কষ্ট গুলো বুঝতে দাওনি।তাই তোমার ত্যাগের, ভালোবাসা র ও কোন মূল্যায়ন হয়নি এই সংসারে।বাবা চিরকাল নিজেকে নিয়ে ই ব্যাস্ত থেকেছে, এখনো আছে দেখো!!!
মামনি, ভালোবাসা তো বিলিয়ে দেবার জন্য।মূল্যায়ন এর আশা করে কাউকে ভালোবাসা যায় না। আমি দূর থেকে ই তার আনন্দে নিজের আনন্দ খুঁজে পেয়েছি। বলে ই ,
স্নিগ্ধা তাকিয়ে দেখল শান্ত কানে ফোন নিয়ে স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে আছে।

স্নিগ্ধা চোখ সরিয়ে নিল।প্রতূষকে আমার কোলে দেও।আর কিছুক্ষণ বাদেই তো তোমাদের ডাক পরে যাবে ইমিগ্রেশন এর । হে রে, খোকা কে বলেছো, তুমি টরেন্টো যাবে যে ?
না মা কিচ্ছু বলব না, ওকে সারপ্রাইজ দিব। তুমি ও বলোনা ফোন করলে।
আচ্ছা ঠিক আছে বলব না। ওখানে গিয়ে ই না হয় ফোন কোরো দুই ভাই বোন। আমি অপেক্ষায় থাকব।
শান্ত পাশে এসে দাঁড়াল মুগ্ধতার।
জানতে চাইল, আবার কবে আসবি মা??
নেক্সট ভ্যাকেশনে আসার ইচ্ছে আছে বাবা। তুমি ততদিন মা এর খেয়াল রেখো।
শান্ত ফিরে তাকালো স্নিগ্ধার দিকে।
স্নিগ্ধা প্রতূষকে কোলে আঁকড়ে আছে।
এরিমধ্যে ইমিগ্রেশন এর ডাক পরল,
মুগ্ধতা প্রতূষকে কোলে নিতে নিতে বলল, মা,বাবা এবার আসি।
স্নিগ্ধা বললো,এসো মামনি, আবার এলে প্রতুল কে সাথে নিয়ে এসো,একা নয়।
মুগ্ধতা হেসে বলল,মা পারলে বাবাকে ক্ষমা করে দিও।
স্নিগ্ধা বলল,সে তো অনেক আগেই দিয়েছি মামনি, তুমি চিন্তা মুক্ত হয়ে যাও প্রতূল এর কাছে আপন ভুবনে।
শান্ত হাত বাড়িয়ে স্নিগ্ধার হাতটা ধরতেই মুগ্ধতা বাবা ও মা কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল।
শান্ত বলল আমি তোমার মা এর খেয়াল রাখব মামনি। তুমি কেঁদো না।
মুগ্ধতা চোখ মুছে হাসতে হাসতে প্রত্যুষ কে নিয়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এ ঢুকে গেল।
শান্ত বলল আজ বাসায় ফিরব না,চল স্নিগ্ধা আজ অন্য কোথাও যাই,
স্নিগ্ধা অবাক হয়ে বলল কোথায় যাবে??
শান্ত বলল,
যেথায় কৃষ্ণচূড়া দোল খায় জোৎস্না মাখা দীঘির জলে।

ট্যাগস :

ফারহানা তালুকদার পুতুল এর ছোট গল্পঃ ফেরা

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশ কণ্ঠ ।।

চরম বিরক্তি নিয়ে বের হয়ে এলো মুগ্ধতা। একহাতে প্রত্যূষ,আর অন্য হাতে বোর্ডিং পাস নিয়ে।

স্নিগ্ধা প্রত্যূষকে কোলে নিতে নিতে জানতে চাইল,
বোর্ডিং পাস তো হাতেই , তাহলে এত বিরক্ত কেন মামনি??

আর বলো না মা,ফ্লাইট নাকি ডিলে হবে দুই ঘণ্টা। বলতো কেমন টা লাগে??!! ওদিকে প্রতুল তো আমাদের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে!!!! বেচারা একা একা কি খাচ্ছে না খাচ্ছে!!! ধুর!!!

প্রতুলকে এখনি মেসেজ করে দেও ,যে ফ্লাইট ডিলে হবে, তাহলেই তো ওৎআর অপেক্ষা করে বসে থাকবে না।এত টেনশন এর কি আছে!!

না মা তুমি বুঝতে পারছ না, অনেক বিরক্ত লাগছে।
ছটফট করছে মুগ্ধতা। মা এর কোল থেকে প্রত্যূষ কে কোলে তুলে নিয়ে বলল,
যাই ওকে টয়লেট করিয়ে আনি।বোঝাই যাচ্ছে ইমিগ্রেশনেও দেরি হবে এখন।

আচ্ছা যাও। আমি আছি এখানে।

স্নিগ্ধা মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাসলো। এই তো একুশ দিন আগে মুগ্ধতা LA থেকে দেশে ফিরল, এসে ই বলল, আর ফিরে যাব না মা প্রতুল এর কাছে। বোরিং একটা মানুষ। অগোছালো।ড্রেসিং সেন্স নেই। যাচ্ছে তাই।জানো মা, বাবার মতো প্রতুলকে ও টাই সিলেক্ট করে দিতে হয়, না হলে হাতে শার্ট নিয়ে বসে থাকে। আমি কিচেন সামলাবো, প্রত্যূষকে সামলাবো, না টাই খুঁজব???বল মা??
আমাকে ও তো বের হতে হয় অফিসে, নাকি!!!!!!

স্নিগ্ধা বুঝল, মেয়ে প্রতুল এর সাথে রাগ করে চলে এসেছে দেশে। স্নিগ্ধা মনে মনে ভাবলো, ভালো ই হয়েছে। কদিন মেয়ে টা কে কাছে পাবে স্নিগ্ধা। শান্তোর ও সময় কাটবে নাতিকে নিয়ে।
একমাত্র ছেলে স্বরুপ টরেন্টো তে চলে যাওয়ার পর থেকে, শান্ত আর স্নিগ্ধা একা হয়ে গেছে যেন। সময় যেন কাটে না বুড়ো বুড়ির। স্নিগ্ধা তার শখের গাছের পরিচর্যা করে সময় কাটায়,আর শান্ত ইংলিশ মুভি দেখে দেখে।
বিয়াল্লিশ বছর আগে যৌথ পরিবারে বৌ হয়ে এবাড়িতে এসেছিল স্নিগ্ধা। শশুর শাশুড়ি দেবর ননদ জা সবাই ছিল একসময়। এরপর এক এক করে নিজের পছন্দ মত,যে যার গন্তব্যে চলে গেছে। শান্ত তখন অনেক ব্যাস্ত সময় পার করত। প্রয়োজন ছাড়া স্নিগ্ধার সাথে কথা বলার ও সময় পেত না শান্ত।
অন্যদিকে স্নিগ্ধা অপেক্ষার প্রহর গুনত, শান্তর কখন সময় হবে সেই মুহূর্তের জন্য। বন্ধু রুপে কোল জুড়ে এলো মুগ্ধতা। স্নিগ্ধা তার ধ্যান জ্ঞান উজাড় করে দিল কন্যার জন্য।
শান্ত নিজেকে নিয়ে তার প্রিয়জনদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতো, মুগ্ধতা কে দেখার সময় পেত না।

কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই স্নিগ্ধার, শুধু ই যেন বোঝাপড়া নিজের সাথে।
কিছুদিন পর এলো স্বরুপ। মুগ্ধতা আর স্বরুপ সম্পূর্ণ দখল করে নিল স্নিগ্ধার জীবন গাঁথা।
বাবা হিসেবে শান্ত বরাবরই দায়িত্বশীল । শুধু স্নিগ্ধার বেলাতেই সে বড্ড উদাসীন।
মুগ্ধতা ফিরে এসেছে প্রত্যূষ কে নিয়ে টয়লেট থেকে।
ছেলে টা দিন কে দিন দুষ্টু হয়ে যাচ্ছে মা। আচ্ছা মা, বাবা কোথায়? বাবাকে দেখছি না কেন?

স্নিগ্ধা হাত উঁচিয়ে দূরে দেখালো,
শান্ত অন্য এক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে গল্প করছে।

মুগ্ধতা বলল, তোমাকে এখানে একা রেখে বাবা ওদের সাথে বসে আছে কেন??
স্নিগ্ধা বলল, আমি বেশ আছি,ওনাকে ওনার মতো থাকতে দেও।

না না থাকবে কেন? চিরকাল বাবা কে ছাড় দিয়ে এসেছো,আর না।রাখো আমি ফোন করে বাবাকে ডাকি।
স্নিগ্ধা মেয়ে কে থামিয়ে দিলেন।
কিন্তু ততক্ষণে শান্তর কাছে কল চলে গেছে।মা মেয়ে কেউ সেটা লক্ষ্য করেনি।

মুগ্ধতা মা এর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, সত্যি করে একটা কথা বলবে মা??

কি জানতে চাও?

বাবা তো তোমাকে কখনই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি, তবু তুমি বাবাকে ছেড়ে চলে যাওনি কেন মা???

স্নিগ্ধা হেসে বলল,আজ তুমি যে কারণে প্রতুল এর কাছে ফিরে যাচ্ছো, সেই কারণেই যাওয়া হয় নি আমার। আমার কেন বলছি, খুব কম মেয়ে ই পারে সব কিছু ছিন্ন করে চলে যেতে। সবাই পারে না। কাউকে কখনো একা করে দিতে নেই,যে একাকিত্ব সহ্য করার ক্ষমতা তোমার নিজের ই নেই।

আসলে সংসারে দুটো মানুষ যখন একসাথে একি ছাদের নিচে বসবাস শুরু করে, তখন তাদের মধ্যে সম্পর্ক টা তৈরি হয় একটা নিত্য অভ্যাসের মধ্যে দিয়ে। সেখানে ভালোবাসার পরিমাণ টা থাকে আপেক্ষিক।আর অভিযোগ গুলো হয়ে যায় নিঃস্প্রাণ।

মা, যদি বলি দোষ টা তোমার ই, তুমি বাবাকে কখনো ই তোমার কষ্ট গুলো বুঝতে দাওনি।তাই তোমার ত্যাগের, ভালোবাসা র ও কোন মূল্যায়ন হয়নি এই সংসারে।বাবা চিরকাল নিজেকে নিয়ে ই ব্যাস্ত থেকেছে, এখনো আছে দেখো!!!
মামনি, ভালোবাসা তো বিলিয়ে দেবার জন্য।মূল্যায়ন এর আশা করে কাউকে ভালোবাসা যায় না। আমি দূর থেকে ই তার আনন্দে নিজের আনন্দ খুঁজে পেয়েছি। বলে ই ,
স্নিগ্ধা তাকিয়ে দেখল শান্ত কানে ফোন নিয়ে স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে আছে।

স্নিগ্ধা চোখ সরিয়ে নিল।প্রতূষকে আমার কোলে দেও।আর কিছুক্ষণ বাদেই তো তোমাদের ডাক পরে যাবে ইমিগ্রেশন এর । হে রে, খোকা কে বলেছো, তুমি টরেন্টো যাবে যে ?
না মা কিচ্ছু বলব না, ওকে সারপ্রাইজ দিব। তুমি ও বলোনা ফোন করলে।
আচ্ছা ঠিক আছে বলব না। ওখানে গিয়ে ই না হয় ফোন কোরো দুই ভাই বোন। আমি অপেক্ষায় থাকব।
শান্ত পাশে এসে দাঁড়াল মুগ্ধতার।
জানতে চাইল, আবার কবে আসবি মা??
নেক্সট ভ্যাকেশনে আসার ইচ্ছে আছে বাবা। তুমি ততদিন মা এর খেয়াল রেখো।
শান্ত ফিরে তাকালো স্নিগ্ধার দিকে।
স্নিগ্ধা প্রতূষকে কোলে আঁকড়ে আছে।
এরিমধ্যে ইমিগ্রেশন এর ডাক পরল,
মুগ্ধতা প্রতূষকে কোলে নিতে নিতে বলল, মা,বাবা এবার আসি।
স্নিগ্ধা বললো,এসো মামনি, আবার এলে প্রতুল কে সাথে নিয়ে এসো,একা নয়।
মুগ্ধতা হেসে বলল,মা পারলে বাবাকে ক্ষমা করে দিও।
স্নিগ্ধা বলল,সে তো অনেক আগেই দিয়েছি মামনি, তুমি চিন্তা মুক্ত হয়ে যাও প্রতূল এর কাছে আপন ভুবনে।
শান্ত হাত বাড়িয়ে স্নিগ্ধার হাতটা ধরতেই মুগ্ধতা বাবা ও মা কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল।
শান্ত বলল আমি তোমার মা এর খেয়াল রাখব মামনি। তুমি কেঁদো না।
মুগ্ধতা চোখ মুছে হাসতে হাসতে প্রত্যুষ কে নিয়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এ ঢুকে গেল।
শান্ত বলল আজ বাসায় ফিরব না,চল স্নিগ্ধা আজ অন্য কোথাও যাই,
স্নিগ্ধা অবাক হয়ে বলল কোথায় যাবে??
শান্ত বলল,
যেথায় কৃষ্ণচূড়া দোল খায় জোৎস্না মাখা দীঘির জলে।