ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফরিদা পারভীন গান থেকে দূরে কেন?

বিনোদন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪ ১২ বার পঠিত

‘খাঁচার ভিতর অচীন পাখি’ গানটি বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ ২০ গানের অন্যতম একটি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। গানটি গেয়েছেন লালনকন্যা হিসেবে পরিচিত ফরিদা পারভীন। লালনের গান গেয়ে দেশ-বিদেশে খ্যাতি কুড়ানো যেসব শিল্পী আছেন তাদের সবার অগ্রভাগে অবস্থান করছেন বরেণ্য এই লালনসঙ্গীত শিল্পী ফরিদা পারভীন।

লালনসঙ্গীত ছাড়াও আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ফরিদা পারভীন।

সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে প্রায় ৫৩ বছরের ক্যারিয়ার পার করছেন ফরিদা পারভীন। লালনসঙ্গীতে কিংবদন্তিতুল্য খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। দেশের এমন কোনো মানুষ নেই যারা লালনসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে ফরিদা পারভীনের নাম শোনেনি। দেশ-বিদেশে ঘুরেছেন লালনের গান নিয়ে তিনি। এখনো সময় ও সুযোগ পেলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাঙালি শ্রোতাদের লালনের গান শোনাতে যান।

আজকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে লালন সঙ্গীতসহ সব ধরনের মহাজনী গানের যে জনপ্রিয়তা বাড়ছে, টিভি লাইভ শো থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি স্টেজ শোতে দর্শক-শ্রোতাদের আসন থেকে ফোক গান গাওয়ার জন্য যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সিনেমার প্লে-ব্যাকেও যেভাবে ফোক গান গুরুত্ব পাচ্ছে- তারই একজন অগ্রগণ শিল্পী হিসেবে ফরিদা পারভীন এদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন।

অনেকেই মনে করেন, ফরিদা পারভীন যেহেতু প্রথমে ক্লাসিক্যাল গানে দীক্ষা নেন এরপর যে নজরুলের গান শেখেন সেই নজরুলের গানও যেহেতু উচ্চমার্গীয় ক্লাসিক সে কারণেই ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে পরে লালনের গান আরও বেশি উচ্চমার্গের লালনীয় হয়ে উঠতে সাহায্য করে। যে কারণে লালনসঙ্গীতে ফরিদা পারভীনের তুলনা শুধু একজন ফরিদা পারভীনই।

ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে যেসব গান শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘এই পদ্মা, এই মেঘনা, এই যমুনা-সুরমা নদীর তটে’, ‘তোমরা ভুলেই গেছ মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়ে প্রেমের কী সাধ আছে বল’, ‘খাঁচার ভিতর অচীন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশি নগর’ ছাড়াও আরও বহু গান।

ফরিদা পারভীন তার ক্যারিয়ারে গেয়েছেন অনেক কালজয়ী গান। তার এই অনন্য কীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ সেই ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালে অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন ২০০৮ সালে। এ ছাড়া বহু পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি।

কিস্তু ইদানিং ফরিদা পারভিনকে গানের ভূবনে দেখা যাচ্ছে না। এর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করেও জানা যায়নি। কিন্তু যতটুকু জানা গেছে, বর্তমানে যে ধুম-ধারাক্কা গানের ভীড়ে তাল মেলাতে পারছেন না গুণী এই শিল্পী। তিনি মনে করেন, গানের মাঝে যদি মনের ভাবই না থাকে তাহলে এই গান করে লাভ কি?

ফরিদা পারভীন গান থেকে দূরে কেন?

আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪

‘খাঁচার ভিতর অচীন পাখি’ গানটি বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ ২০ গানের অন্যতম একটি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। গানটি গেয়েছেন লালনকন্যা হিসেবে পরিচিত ফরিদা পারভীন। লালনের গান গেয়ে দেশ-বিদেশে খ্যাতি কুড়ানো যেসব শিল্পী আছেন তাদের সবার অগ্রভাগে অবস্থান করছেন বরেণ্য এই লালনসঙ্গীত শিল্পী ফরিদা পারভীন।

লালনসঙ্গীত ছাড়াও আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ফরিদা পারভীন।

সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে প্রায় ৫৩ বছরের ক্যারিয়ার পার করছেন ফরিদা পারভীন। লালনসঙ্গীতে কিংবদন্তিতুল্য খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। দেশের এমন কোনো মানুষ নেই যারা লালনসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে ফরিদা পারভীনের নাম শোনেনি। দেশ-বিদেশে ঘুরেছেন লালনের গান নিয়ে তিনি। এখনো সময় ও সুযোগ পেলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাঙালি শ্রোতাদের লালনের গান শোনাতে যান।

আজকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে লালন সঙ্গীতসহ সব ধরনের মহাজনী গানের যে জনপ্রিয়তা বাড়ছে, টিভি লাইভ শো থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি স্টেজ শোতে দর্শক-শ্রোতাদের আসন থেকে ফোক গান গাওয়ার জন্য যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সিনেমার প্লে-ব্যাকেও যেভাবে ফোক গান গুরুত্ব পাচ্ছে- তারই একজন অগ্রগণ শিল্পী হিসেবে ফরিদা পারভীন এদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন।

অনেকেই মনে করেন, ফরিদা পারভীন যেহেতু প্রথমে ক্লাসিক্যাল গানে দীক্ষা নেন এরপর যে নজরুলের গান শেখেন সেই নজরুলের গানও যেহেতু উচ্চমার্গীয় ক্লাসিক সে কারণেই ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে পরে লালনের গান আরও বেশি উচ্চমার্গের লালনীয় হয়ে উঠতে সাহায্য করে। যে কারণে লালনসঙ্গীতে ফরিদা পারভীনের তুলনা শুধু একজন ফরিদা পারভীনই।

ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে যেসব গান শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘এই পদ্মা, এই মেঘনা, এই যমুনা-সুরমা নদীর তটে’, ‘তোমরা ভুলেই গেছ মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়ে প্রেমের কী সাধ আছে বল’, ‘খাঁচার ভিতর অচীন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশি নগর’ ছাড়াও আরও বহু গান।

ফরিদা পারভীন তার ক্যারিয়ারে গেয়েছেন অনেক কালজয়ী গান। তার এই অনন্য কীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ সেই ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালে অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন ২০০৮ সালে। এ ছাড়া বহু পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি।

কিস্তু ইদানিং ফরিদা পারভিনকে গানের ভূবনে দেখা যাচ্ছে না। এর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করেও জানা যায়নি। কিন্তু যতটুকু জানা গেছে, বর্তমানে যে ধুম-ধারাক্কা গানের ভীড়ে তাল মেলাতে পারছেন না গুণী এই শিল্পী। তিনি মনে করেন, গানের মাঝে যদি মনের ভাবই না থাকে তাহলে এই গান করে লাভ কি?