পেইন কিলারে হতে পারে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি!
- আপডেট সময় : ০১:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৩ ৪১১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
মাথাব্যথা থেকে শুরু করে শরীরে ব্যথা পর্যন্ত যে কোনো জায়গায় ব্যথা হলেই অনেকে মুঠো মুঠো পেইন কিলার খেয়ে থাকেন। এই অভ্যাসের কারণে কিছু মানুষ অজান্তেই মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে।
অনেকে বুঝতে পারেন না যে অতিরিক্ত পেইন কিলার শরীরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী ব্যথানাশক ব্যবহারে লিভারের সমস্যা, কিডনি ব্যর্থতা এমনকি গর্ভপাতও হতে পারে।
ডাইক্লোফেনাক, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, নেপ্রোক্সেন-এর মতো ব্যথানাশক ওষুধ খেলে বদহজম, পেটে ব্যথা, গ্যাস্ট্রাইটিস, রক্তপাতসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভালো। তাৎক্ষণিক উপশম প্রদানকারী ব্যথানাশকগুলির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। জেনে নিন ব্যথানাশক ওষুধ শরীরের কী কী ক্ষতি করে-
>> প্যারাসিটামল লিভারের বেশি ক্ষতি করে। এই কারণে প্যারাসিটামল পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। প্রতিদিন ৮টি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট (৫০০ মিলিগ্রাম) খেলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই জ্বর-ঠাণ্ডা, শরীর ব্যথা যাই হোক না কেন, ডাক্তারের পরামর্শে প্যারাসিটামল খান।
>> আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা নেপ্রোক্সেন-এর মতো ব্যথানাশক ওষুধ খেলে পেটে ব্যথা, জ্বালাপোড়া এবং অন্যান্য ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ব্যথানাশক ওষুধ খেলেও পেটে আলসার হতে পারে। পূর্ব-বিদ্যমান আলসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও রক্তপাত হতে পারে।
>> বিষণ্ণতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না। তাহলে ডিপ্রেশনের ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাবে।
>> উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ খেলে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এটি কিডনি ব্যর্থ বা ক্ষতির কারণ হতে পারে। যাদের আগে থেকে কিডনি রোগ আছে তাদের ঝুঁকি বেশি।
>> পেইন কিলার সেবন করলেও কিছু মানুষের গর্ভপাত হতে পারে। যদি কেউ গর্ভাবস্থার প্রথম ২০ সপ্তাহে ব্যথানাশক ব্যবহার করে, তবে তাদের গর্ভপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে যে ব্যথানাশক ওষুধ হরমোনের কার্যকারিতায় হস্তক্ষেপ করে। তাই গর্ভাবস্থায় কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
>> পেইন কিলার যেমন অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন ও নেপ্রোক্সেন রক্ত পাতলা করে। যারা রক্ত পাতলা ওষুধ গ্রহণ করেন তাদের ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে।
>> গবেষণায় দেখা গেছে ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগস (ঘঝঅওউং) হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। এই ওষুধগুলির দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার ২০-৫০ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
তাই ছোটখাটো ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পেইন কিলার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। আর অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।
























