ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড তাপমাত্রা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:০২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪ ৩১ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুর তাপমাত্রায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রেকর্ড করেছেন। দক্ষিণ মেরুর বরফ আচ্ছাদিত পূর্ব মালভূমিতে অবস্থিত কনকর্ডিয়া রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে ১৮ মার্চ, ২০২২-এ এই অঞ্চলের তাপমাত্রা মৌসুমী গড় থেকে ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা একটি বিশ্ব রেকর্ড।

ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক জরিপের বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান প্রফেসর মাইকেল মেরেডিথ বলেন, ব্যাপারটি কেবল মন দোলা দেয়। দক্ষিণ মেরুতে তাপমাত্রার এত বড় লাফ আগে কখনও দেখা যায়নি। বিশ্বের কোনো আবহাওয়া কেন্দ্র এই অঞ্চলে তাপমাত্রার এত বৃদ্ধি রেকর্ড করেনি।

প্রফেসর মাইকেল মেরেডিথ যোগ করেছেন যে সাব-জিরো তাপমাত্রায় এত বড় পরিবর্তন সহনীয়। কিন্তু যদি যুক্তরাজ্যের শীতের তাপমাত্রা হঠাৎ করে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেড়ে যায়, তাহলে বসন্তে দেশের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। এটা ব্রিটিশদের জন্য ভয়ংকর হবে।

মেরেডিথ অ্যান্টার্কটিকার জলবায়ু এবং আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তনের উপর জোর দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহগুলি ২০ শতকের শেষের দিকে এবং ২১ শতকের শুরুতে গলতে শুরু করে। তবে গত এক দশকের মাঝামাঝি থেকে এই গতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের এক্সেটার ইউনিভার্সিটির গ্ল্যাসিওলজিস্ট প্রফেসর মার্টিন সিগার্ট অ্যান্টার্কটিকার এমন পরিবর্তনে দারুণ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা কেউ ভাবিনি যে এরকম কিছু হতে পারে। দক্ষিণ মেরুতে এই তাপমাত্রা স্বাভাবিক সীমার বাইরে এবং যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ।

মার্টিন সিগার্ট আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে হিমশীতল জায়গার তাপমাত্রায় এমন লাফকে বর্ণনা করার ভাষা আমাদের কাছে ছিল না। বিশ্বকে এখন এমন কিছুর সঙ্গে লড়ার জন্য প্রস্ততি নিতে হতে পারে, যা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।

গবেষকরা বলছেন, তাপমাত্রার এত বড় বৃদ্ধি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত দুই বছর ধরে, তারা অ্যান্টার্কটিকার আবহাওয়ায় উদ্বেগজনক অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করছে। বিশেষ করে, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বরফের শীট এবং হিমবাহগুলি ক্রমবর্ধমান হারে গলে যাচ্ছে। ফলে মহাদেশের চারপাশের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বাড়তে শুরু করে।

পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড তাপমাত্রা

আপডেট সময় : ০২:০২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুর তাপমাত্রায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রেকর্ড করেছেন। দক্ষিণ মেরুর বরফ আচ্ছাদিত পূর্ব মালভূমিতে অবস্থিত কনকর্ডিয়া রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে ১৮ মার্চ, ২০২২-এ এই অঞ্চলের তাপমাত্রা মৌসুমী গড় থেকে ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা একটি বিশ্ব রেকর্ড।

ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক জরিপের বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান প্রফেসর মাইকেল মেরেডিথ বলেন, ব্যাপারটি কেবল মন দোলা দেয়। দক্ষিণ মেরুতে তাপমাত্রার এত বড় লাফ আগে কখনও দেখা যায়নি। বিশ্বের কোনো আবহাওয়া কেন্দ্র এই অঞ্চলে তাপমাত্রার এত বৃদ্ধি রেকর্ড করেনি।

প্রফেসর মাইকেল মেরেডিথ যোগ করেছেন যে সাব-জিরো তাপমাত্রায় এত বড় পরিবর্তন সহনীয়। কিন্তু যদি যুক্তরাজ্যের শীতের তাপমাত্রা হঠাৎ করে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেড়ে যায়, তাহলে বসন্তে দেশের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। এটা ব্রিটিশদের জন্য ভয়ংকর হবে।

মেরেডিথ অ্যান্টার্কটিকার জলবায়ু এবং আবহাওয়ার নাটকীয় পরিবর্তনের উপর জোর দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহগুলি ২০ শতকের শেষের দিকে এবং ২১ শতকের শুরুতে গলতে শুরু করে। তবে গত এক দশকের মাঝামাঝি থেকে এই গতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের এক্সেটার ইউনিভার্সিটির গ্ল্যাসিওলজিস্ট প্রফেসর মার্টিন সিগার্ট অ্যান্টার্কটিকার এমন পরিবর্তনে দারুণ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা কেউ ভাবিনি যে এরকম কিছু হতে পারে। দক্ষিণ মেরুতে এই তাপমাত্রা স্বাভাবিক সীমার বাইরে এবং যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ।

মার্টিন সিগার্ট আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে হিমশীতল জায়গার তাপমাত্রায় এমন লাফকে বর্ণনা করার ভাষা আমাদের কাছে ছিল না। বিশ্বকে এখন এমন কিছুর সঙ্গে লড়ার জন্য প্রস্ততি নিতে হতে পারে, যা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।

গবেষকরা বলছেন, তাপমাত্রার এত বড় বৃদ্ধি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত দুই বছর ধরে, তারা অ্যান্টার্কটিকার আবহাওয়ায় উদ্বেগজনক অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করছে। বিশেষ করে, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বরফের শীট এবং হিমবাহগুলি ক্রমবর্ধমান হারে গলে যাচ্ছে। ফলে মহাদেশের চারপাশের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বাড়তে শুরু করে।