ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নায়ক আলমগীরের সত্য মিথ্যার লড়াই

বিনোদন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪ ২৬ বার পঠিত

সত্য-মিথ্যা সিনেমার আজকে না হয় একটু হাসো গানের মধ্য দিয়ে তিনি যেমন হাসিয়েছেন তেমনি বাবা-ছেলের অটুট সম্পর্কের দৃশ্যও কাদিয়েছেন দর্শকদের। সত্তরের দশক থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি অভিনয় করেছেন অত্যন্ত প্রতাপের সঙ্গে। তখনকার নায়কদের মধ্যে ফিগার, হাইট, লুক, অভিনয় সব মিলিয়ে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। বলছি বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান অভিনেতা আলমগীরের কথা। নায়িকাদের বেশ পছন্দেরও ছিলেন তিনি। ব্যবসায়িক সাফল্যের দিক থেকেও ভালো অবস্থানে ছিলেন। উপহার দিয়েছেন অনেক হিট সিনেমাও।

বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ‘দস্যু রাণী’ ছবির সুপারহিট সাফল্যের পরে তাকে ঘিরে নতুন করে পরিচালকদের আগ্রহ তৈরি হয়। তার বিপরীতে অনেক নায়িকাই ছবি করতে থাকে। নিজের কিছু পারফেকশনই নায়িকাদের কাছে প্রিয় নায়কে পরিণত করেছিল।

১৯৭৩ সালে ‘আমার জন্মভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন আলমগীর। আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপুটে অভিনেতা ছিলেন তিনি। পর্দায় সাবলীল অভিনয় দিয়ে সব ধরনের চরিত্রে ফুটিয়ে তুলতেন নিজেকে। সেই সময়ে শাবানা-আলমগীর জুটি ছিল দর্শকপ্রিয়।

আলমগীর অভিনীত ‘সত্য মিথ্যা, মায়ের দোয়া’ ছবি দুটির টলিউডে রিমেকে তিনি নিজেই অভিনয় করেছিলেন। এছাড়া তাঁর আরো কয়েকটি ছবি রিমেক হয়েছে সেখানে। বলিউডি নায়িকা জয়া প্রদা তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন ‘আমি সেই মেয়ে’ ছবিতে এবং এ ছবিতে তাঁদের ‘আগুনের দিন শেষ হবে একদিন’ গানটি বিপুল জনপ্রিয়।

শুধু অভিনয় নয়, গানও গাইতে পারেন এই অভিনেতা। সংগীতে গুরু হিসেবে পেয়েছেন সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে। প্লেব্যাকেও গান গেয়েছেন। ‘আগুনের আলো’, ‘কার পাপে’, ‘ঝুমকা’ ও ‘নির্দোষ’ চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন গুণী এই অভিনেতা।
আমার কাচা পিরিত
এখন পর্যন্ত ৩০০ এর বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই কিংবদন্তি। এর মধ্যে- ‘দস্যুরাণী’, ‘লাভ ইন সিমলা’, ‘মনিহার’, ‘মনের মানুষ’, ‘আগুনের আলো’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘বৌমা’, ‘ভাত দে’, ‘গরীবের বউ’, ‘পিতা-মাতা’, ‘জজ ব্যারিস্টার’, ‘স্ত্রীর মর্যাদা’সহ অসংখ্য আলোচিত ও সুপারহিট সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।

১৯৮৬ সালে কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘মা ও ছেলে’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান আলমগীর। এরপর ১৯৮৭ সালে ‘অপো’, ১৯৮৯ সালে ‘ক্ষতিপূরণ’, ১৯৯০ সালে ‘মরণের পরে’, ১৯৯১ সালে ‘পিতা মাতা সন্তান’, ১৯৯২ সালে ‘অন্ধ বিশ্বাস, ১৯৯৪ সালে ‘দেশ প্রেমিক’সহ মোট ৯ বার এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এছাড়া ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আজীবন সম্মাননায়’ ভূষিত হন এ অভিনেতা।

নায়ক আলমগীরের সত্য মিথ্যার লড়াই

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

সত্য-মিথ্যা সিনেমার আজকে না হয় একটু হাসো গানের মধ্য দিয়ে তিনি যেমন হাসিয়েছেন তেমনি বাবা-ছেলের অটুট সম্পর্কের দৃশ্যও কাদিয়েছেন দর্শকদের। সত্তরের দশক থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি অভিনয় করেছেন অত্যন্ত প্রতাপের সঙ্গে। তখনকার নায়কদের মধ্যে ফিগার, হাইট, লুক, অভিনয় সব মিলিয়ে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। বলছি বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান অভিনেতা আলমগীরের কথা। নায়িকাদের বেশ পছন্দেরও ছিলেন তিনি। ব্যবসায়িক সাফল্যের দিক থেকেও ভালো অবস্থানে ছিলেন। উপহার দিয়েছেন অনেক হিট সিনেমাও।

বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ‘দস্যু রাণী’ ছবির সুপারহিট সাফল্যের পরে তাকে ঘিরে নতুন করে পরিচালকদের আগ্রহ তৈরি হয়। তার বিপরীতে অনেক নায়িকাই ছবি করতে থাকে। নিজের কিছু পারফেকশনই নায়িকাদের কাছে প্রিয় নায়কে পরিণত করেছিল।

১৯৭৩ সালে ‘আমার জন্মভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন আলমগীর। আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপুটে অভিনেতা ছিলেন তিনি। পর্দায় সাবলীল অভিনয় দিয়ে সব ধরনের চরিত্রে ফুটিয়ে তুলতেন নিজেকে। সেই সময়ে শাবানা-আলমগীর জুটি ছিল দর্শকপ্রিয়।

আলমগীর অভিনীত ‘সত্য মিথ্যা, মায়ের দোয়া’ ছবি দুটির টলিউডে রিমেকে তিনি নিজেই অভিনয় করেছিলেন। এছাড়া তাঁর আরো কয়েকটি ছবি রিমেক হয়েছে সেখানে। বলিউডি নায়িকা জয়া প্রদা তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন ‘আমি সেই মেয়ে’ ছবিতে এবং এ ছবিতে তাঁদের ‘আগুনের দিন শেষ হবে একদিন’ গানটি বিপুল জনপ্রিয়।

শুধু অভিনয় নয়, গানও গাইতে পারেন এই অভিনেতা। সংগীতে গুরু হিসেবে পেয়েছেন সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে। প্লেব্যাকেও গান গেয়েছেন। ‘আগুনের আলো’, ‘কার পাপে’, ‘ঝুমকা’ ও ‘নির্দোষ’ চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন গুণী এই অভিনেতা।
আমার কাচা পিরিত
এখন পর্যন্ত ৩০০ এর বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই কিংবদন্তি। এর মধ্যে- ‘দস্যুরাণী’, ‘লাভ ইন সিমলা’, ‘মনিহার’, ‘মনের মানুষ’, ‘আগুনের আলো’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘বৌমা’, ‘ভাত দে’, ‘গরীবের বউ’, ‘পিতা-মাতা’, ‘জজ ব্যারিস্টার’, ‘স্ত্রীর মর্যাদা’সহ অসংখ্য আলোচিত ও সুপারহিট সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।

১৯৮৬ সালে কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘মা ও ছেলে’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান আলমগীর। এরপর ১৯৮৭ সালে ‘অপো’, ১৯৮৯ সালে ‘ক্ষতিপূরণ’, ১৯৯০ সালে ‘মরণের পরে’, ১৯৯১ সালে ‘পিতা মাতা সন্তান’, ১৯৯২ সালে ‘অন্ধ বিশ্বাস, ১৯৯৪ সালে ‘দেশ প্রেমিক’সহ মোট ৯ বার এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এছাড়া ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আজীবন সম্মাননায়’ ভূষিত হন এ অভিনেতা।