ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নায়করাজ এর স্মৃতি চির অম্লান

বিনোদন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪ ২৭ বার পঠিত

“নায়করাজ”- শব্দটি উচ্চারণের পর নাম বলার প্রয়োজন পড়ে না। বাংলাদেশের তো বটেই, পশ্চিম বাংলার মানুষেরাও বুঝে যান কার কথা বলা হয়েছে। এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অপরিসীম অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আব্দুর রাজ্জাক, নিজ গুণে চলচ্চিত্র প্রেমীদের হৃদয়ের ঠাঁই আসন গেড়েছেন নায়ক রাজ রাজ্জাক হয়ে।

১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিনেমা জগতে পূর্ণাঙ্গ অভিষেক ঘটে নায়ক রাজ্জাকের। তারপর একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়ে রাজ্জাক হয়ে ওঠেন নায়করাজ। দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘আনোয়ারা’ আর তৃতীয় ‘আগুন নিয়ে খেলা’। এই ছবি বের হওয়ার আগেই তিনি সুপারস্টার খেতাবে ভূষিত হন তিনি।

নায়ক রাজ রাজ্জাক চলচ্চিত্রে প্রথম জুটি বেঁধে কাজ করেছেন জনপ্রিয় নায়িকা সুচন্দার সঙ্গে। এরপর একে একে কবরী, শাবানা, সূচনা, ববিতার সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেন। তবে রাজ্জাক-কবরী জুটি এক অনবদ্য সৃষ্টি। যুগের পর যুগ শেষ হলেও এই জুটির খ্যাতি শীর্ষে।

চলচ্চিত্র জীবনে পাঁচ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করলেও তার তিন’শ ছবি রয়েছে যেখানে তাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে গল্প। নায়ক হিসেবে রাজ রাজ্জাক সর্বশেষ অভিনয় করেন ১৯৯৪ সালে ‘অন্ধবিশ্বাস’ চলচ্চিত্রে। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর চলচ্চিত্র থেকে বিরতি নেন।

ফিরে আসেন সুপারহিট ‘বাবা কেন চাকর ছবির’ মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তখন তিনি কলকাতার চলচ্চিত্রে অভিনয় করা শুরু করেন। দুই বাংলার চলচ্চিত্রে তিনিই ছিলেন নায়ক রাজ রাজ্জাক।

চলচ্চিত্র জীবনে তিনি বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। পাঁচবার তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৩ সালে নায়ক রাজ রাজ্জাক জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। এ ছাড়া মেরিল প্রথম আলো আজীবন সম্মাননাসহ বহু চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন।

২০১৭ সালের ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চির বিদায় নেন নায়করাজ-রাজ্জাক। রাজ্জাকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলা চলচ্চিত্রের একটি সোনালী অধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি জয় করেছিলেন এ দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের হৃদয়। যতদিন বাংলা চলচ্চিত্র বেঁচে থাকবে ততদিন নায়করাজ আমাদের অন্তরে চিরসবুজের মত বেঁচে থাকবেন।

নায়করাজ এর স্মৃতি চির অম্লান

আপডেট সময় : ০৫:২৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

“নায়করাজ”- শব্দটি উচ্চারণের পর নাম বলার প্রয়োজন পড়ে না। বাংলাদেশের তো বটেই, পশ্চিম বাংলার মানুষেরাও বুঝে যান কার কথা বলা হয়েছে। এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অপরিসীম অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আব্দুর রাজ্জাক, নিজ গুণে চলচ্চিত্র প্রেমীদের হৃদয়ের ঠাঁই আসন গেড়েছেন নায়ক রাজ রাজ্জাক হয়ে।

১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিনেমা জগতে পূর্ণাঙ্গ অভিষেক ঘটে নায়ক রাজ্জাকের। তারপর একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়ে রাজ্জাক হয়ে ওঠেন নায়করাজ। দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘আনোয়ারা’ আর তৃতীয় ‘আগুন নিয়ে খেলা’। এই ছবি বের হওয়ার আগেই তিনি সুপারস্টার খেতাবে ভূষিত হন তিনি।

নায়ক রাজ রাজ্জাক চলচ্চিত্রে প্রথম জুটি বেঁধে কাজ করেছেন জনপ্রিয় নায়িকা সুচন্দার সঙ্গে। এরপর একে একে কবরী, শাবানা, সূচনা, ববিতার সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেন। তবে রাজ্জাক-কবরী জুটি এক অনবদ্য সৃষ্টি। যুগের পর যুগ শেষ হলেও এই জুটির খ্যাতি শীর্ষে।

চলচ্চিত্র জীবনে পাঁচ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করলেও তার তিন’শ ছবি রয়েছে যেখানে তাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে গল্প। নায়ক হিসেবে রাজ রাজ্জাক সর্বশেষ অভিনয় করেন ১৯৯৪ সালে ‘অন্ধবিশ্বাস’ চলচ্চিত্রে। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর চলচ্চিত্র থেকে বিরতি নেন।

ফিরে আসেন সুপারহিট ‘বাবা কেন চাকর ছবির’ মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তখন তিনি কলকাতার চলচ্চিত্রে অভিনয় করা শুরু করেন। দুই বাংলার চলচ্চিত্রে তিনিই ছিলেন নায়ক রাজ রাজ্জাক।

চলচ্চিত্র জীবনে তিনি বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। পাঁচবার তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৩ সালে নায়ক রাজ রাজ্জাক জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। এ ছাড়া মেরিল প্রথম আলো আজীবন সম্মাননাসহ বহু চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন।

২০১৭ সালের ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চির বিদায় নেন নায়করাজ-রাজ্জাক। রাজ্জাকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলা চলচ্চিত্রের একটি সোনালী অধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি জয় করেছিলেন এ দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের হৃদয়। যতদিন বাংলা চলচ্চিত্র বেঁচে থাকবে ততদিন নায়করাজ আমাদের অন্তরে চিরসবুজের মত বেঁচে থাকবেন।