ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নরসিংদীতে সংবর্ধনা নেওয়ার সময় ভূয়া ম্যাজিস্ট্রেট আটক, তিন মাসের সাজা Logo দেশের বাজারে বয়া এর নতুন অল ইন ওয়ান ওয়ারলেস মাইক্রোফোন Logo সাড়ে চারশ কোটির হীরার নেকলেসে নজর কাড়লেন প্রিয়াঙ্কা Logo  পৃথিবীতে কোন দেশের মেয়েরা সবচেয়ে বেশি সুন্দরী Logo বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেশের গণতন্ত্র-মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী Logo ঈদের সময় ১১ দিন বাল্কহেড চলাচল বন্ধ Logo বিএসআরএফ বার্তা’র মোড়ক উম্মোচন করলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo টানা ছয় ম্যাচ জিতে প্লে অফ নিশ্চিত করলেও শেষমেশ বিদায় নিলো বেঙ্গালুরু Logo গাজায় মসজিদে ইসরায়েলি হামলা, ১০ শিশুসহ নিহত ১৬ Logo এমপি আনোয়ারুল হত্যাকাণ্ড: ঢাকায় আসছে ভারতীয় পুলিশের স্পেশাল টিম

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নিরঞ্জন গান করেই ঘুরে বেড়ান

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৩ ৮ বার পঠিত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নিরঞ্জন ‘আমি কি করিবো রে প্রাণনাথ/ তুমি বিনে…’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল, কেমন দেখা যায়…’, ‘আমি অন্ধ মানুষ, দেখার শক্তি নাই; সবাইরে দিছে চক্ষু, আমায় দেয় নাই দয়াল’ -এমন অসংখ্য গানই দৃষ্টিহীন নিরঞ্জন বুনার্জির (২০) জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। খালি গলায় গাওয়া তার এসব গান শুনে মুগ্ধ হন মৌলভীবাজারের বড়লেখার মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে আসা দর্শনার্থীরা। যে যার মত করে দেন, যার যার সামর্থ্য মতো করে টাকা। এ টাকাতেই ঘোরে তার জীবিকার চাকা। নিরঞ্জন বুনার্জি বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পাথারিয়া চা বাগানের চা শ্রমিক মেঘনাথ বুনার্জির ছেলে। জন্ম থেকেই তার দুই চোখে আলো নেই। তবে স্রষ্টা যেন তার কণ্ঠে সব সুর ঢেলে দিয়েছেন। নিরঞ্জনের মনের জোরের কাছে হার মেনেছে দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা। তাই জীবনের প্রয়োজনে গানকে বেঁচে নিয়েছেন।
গত বুধবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকায় কথা হয় নিরঞ্জন বুনার্জির সাথে। তিনি বলেন, আমি জন্ম থেকেই অন্ধ। বাবা-মা চা শ্রমিক। তারা আমাকে কষ্ট করে বড় করেছেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে আমি সবার বড়। আমার ছোট বোনের বিয়ে হয়েছে। বাকি ভাই-বোনেরা লেখাপড়া করছে। নিরঞ্জন বলেন, লেখাপড়ার ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু চোঁখে দেখি না। তাই আর লেখাপড়া করতে পারিনি। কাজও করতে পারি না। একটু গান গাইতে পারি। ২০১০ সাল থেকেই গান গেয়ে আয়-রোজগার করি। তাই বাবা আমাকে প্রায় মাধবকুণ্ডে দিয়ে যান। বিকেলে আবার এসে নিয়েও যান। মাধবকুণ্ডে ঘুরতে আসা পর্যটকদের গান গেয়ে শোনাই। নিজের লেখা একটি গানের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পীদের গান গেয়ে শোনাই মানুষকে। গান শুনে তারা খুশি হয়ে যা টাকা দেন, তাতে কোনোমতে চলে। কোনো কোনো দিন ১৫০-২০০ টাকা আয় হয়। মানুষ বেশি থাকলে কখনো ৩০০ টাকাও আয় হয়। গান গেয়ে আয় করা সব টাকা বাবার হাতে তুলে দিই। আমার টাকাটাই পরিবারের বড় আয়।
নিরঞ্জন আরও বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকার ভাতা দিচ্ছে। সরকারি একটা ঘরও পেয়েছি। কিন্তু কারেন্ট (বিদ্যুৎ সংযোগ) পাইনি। কারেন্ট পেলে মনে অনেক আনন্দ পেতাম। জীবনে কোনো স্বপ্ন আছে কিনা জানতে চাইলে নিরঞ্জন বলেন, বড় কোনো স্বপ্ন নেই। আপনারা আমার গান শুনে যে টাকা দেন তাও তো অনেক বেশি পাওয়া। নানা কথা শেষে নিরঞ্জন আবারো গান ধরলেন ‘তুমি দুঃখের বেলা সুখের গান শোনাইও…’।তার কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ অনেকেই আশপাশে ভিড় জমান, নিরঞ্জন গেয়ে চলেন একের পর এক সুরেলা কন্ঠের যাদুতে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নিরঞ্জন গান করেই ঘুরে বেড়ান

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৩

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নিরঞ্জন ‘আমি কি করিবো রে প্রাণনাথ/ তুমি বিনে…’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল, কেমন দেখা যায়…’, ‘আমি অন্ধ মানুষ, দেখার শক্তি নাই; সবাইরে দিছে চক্ষু, আমায় দেয় নাই দয়াল’ -এমন অসংখ্য গানই দৃষ্টিহীন নিরঞ্জন বুনার্জির (২০) জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। খালি গলায় গাওয়া তার এসব গান শুনে মুগ্ধ হন মৌলভীবাজারের বড়লেখার মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে আসা দর্শনার্থীরা। যে যার মত করে দেন, যার যার সামর্থ্য মতো করে টাকা। এ টাকাতেই ঘোরে তার জীবিকার চাকা। নিরঞ্জন বুনার্জি বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পাথারিয়া চা বাগানের চা শ্রমিক মেঘনাথ বুনার্জির ছেলে। জন্ম থেকেই তার দুই চোখে আলো নেই। তবে স্রষ্টা যেন তার কণ্ঠে সব সুর ঢেলে দিয়েছেন। নিরঞ্জনের মনের জোরের কাছে হার মেনেছে দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা। তাই জীবনের প্রয়োজনে গানকে বেঁচে নিয়েছেন।
গত বুধবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকায় কথা হয় নিরঞ্জন বুনার্জির সাথে। তিনি বলেন, আমি জন্ম থেকেই অন্ধ। বাবা-মা চা শ্রমিক। তারা আমাকে কষ্ট করে বড় করেছেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে আমি সবার বড়। আমার ছোট বোনের বিয়ে হয়েছে। বাকি ভাই-বোনেরা লেখাপড়া করছে। নিরঞ্জন বলেন, লেখাপড়ার ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু চোঁখে দেখি না। তাই আর লেখাপড়া করতে পারিনি। কাজও করতে পারি না। একটু গান গাইতে পারি। ২০১০ সাল থেকেই গান গেয়ে আয়-রোজগার করি। তাই বাবা আমাকে প্রায় মাধবকুণ্ডে দিয়ে যান। বিকেলে আবার এসে নিয়েও যান। মাধবকুণ্ডে ঘুরতে আসা পর্যটকদের গান গেয়ে শোনাই। নিজের লেখা একটি গানের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পীদের গান গেয়ে শোনাই মানুষকে। গান শুনে তারা খুশি হয়ে যা টাকা দেন, তাতে কোনোমতে চলে। কোনো কোনো দিন ১৫০-২০০ টাকা আয় হয়। মানুষ বেশি থাকলে কখনো ৩০০ টাকাও আয় হয়। গান গেয়ে আয় করা সব টাকা বাবার হাতে তুলে দিই। আমার টাকাটাই পরিবারের বড় আয়।
নিরঞ্জন আরও বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকার ভাতা দিচ্ছে। সরকারি একটা ঘরও পেয়েছি। কিন্তু কারেন্ট (বিদ্যুৎ সংযোগ) পাইনি। কারেন্ট পেলে মনে অনেক আনন্দ পেতাম। জীবনে কোনো স্বপ্ন আছে কিনা জানতে চাইলে নিরঞ্জন বলেন, বড় কোনো স্বপ্ন নেই। আপনারা আমার গান শুনে যে টাকা দেন তাও তো অনেক বেশি পাওয়া। নানা কথা শেষে নিরঞ্জন আবারো গান ধরলেন ‘তুমি দুঃখের বেলা সুখের গান শোনাইও…’।তার কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ অনেকেই আশপাশে ভিড় জমান, নিরঞ্জন গেয়ে চলেন একের পর এক সুরেলা কন্ঠের যাদুতে।