ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ইমনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ Logo বড়ইয়ায় নিজস্ব অর্থায়নে দেড় কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করলেন সমাজসেবক আতিকুর রহমান আতিক Logo অন্ধকারে নিমজ্জিত মিনি পর্যটনখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু বিজয়নগর সড়ক, ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা Logo বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম ১৭ মিনিট, শাকিরা-ম্যাডোনা-জাস্টিন বিবারের পারফরম্যান্স নিশ্চিত Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার গৃহবন্দী, ৩ দিন অনাহারে শিশুসহ পরিবারের ৬ সদস্য  Logo ধামরাইয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি Logo ইরান সংকটে ট্রাম্পের সামনে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা, বলছে নিউইয়র্ক টাইমস Logo রাজাপুরের বড়ইয়ায় মেম্বার প্রার্থী আব্দুল হালিম হাওলাদারের মতবিনিময় সভা Logo অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানববন্ধন

দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি শেষ মুহূর্তে মিললেও তা প্রত্যাখ্যান করি: জাহেদ উর রহমান

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ৮৫ বার পঠিত

ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাকে ‘হয়রানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা Zahed Ur Rahman। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনার প্রতিবাদস্বরূপ দিল্লিতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি ব্যক্তিগত কারণে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ভারত সফরে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

তিনি বলেন, “সরকারের একটি নিজস্ব অবস্থান ও মর্যাদা রয়েছে। আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই আমি প্রবেশের অনুমতি গ্রহণ না করে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এ সময় তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে তিনি একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন যে বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং তার নিজস্ব অবস্থান রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি হোক, এমনটি তিনি চান না।

ভারত সফর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে তিনি অবশ্যই ভারত সফরে যাবেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিস্তৃত সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত সফরের অংশ হিসেবে গত রোববার (১৪ জুন) এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছান জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাকে স্বাগত জানালেও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় গিয়ে তিনি জটিলতার মুখে পড়েন। কর্মকর্তারা তার তথ্য দীর্ঘ সময় যাচাই করেন এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়।

পরবর্তীতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তার নাম একটি ‘ওয়াচলিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ পরিস্থিতিকে অপমানজনক মনে করে ঢাকার উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

উল্লেখ্য, এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার Pawan Badhe-কে তলব করা হয়। অন্যদিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ক্রিনিংয়ের সময় তার নাম নজরদারি তালিকায় উঠে আসায় এই বিলম্ব ও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল।

ট্যাগস :

দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি শেষ মুহূর্তে মিললেও তা প্রত্যাখ্যান করি: জাহেদ উর রহমান

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাকে ‘হয়রানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা Zahed Ur Rahman। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনার প্রতিবাদস্বরূপ দিল্লিতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি ব্যক্তিগত কারণে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ভারত সফরে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

তিনি বলেন, “সরকারের একটি নিজস্ব অবস্থান ও মর্যাদা রয়েছে। আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই আমি প্রবেশের অনুমতি গ্রহণ না করে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এ সময় তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে তিনি একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন যে বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং তার নিজস্ব অবস্থান রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি হোক, এমনটি তিনি চান না।

ভারত সফর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে তিনি অবশ্যই ভারত সফরে যাবেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিস্তৃত সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত সফরের অংশ হিসেবে গত রোববার (১৪ জুন) এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছান জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাকে স্বাগত জানালেও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় গিয়ে তিনি জটিলতার মুখে পড়েন। কর্মকর্তারা তার তথ্য দীর্ঘ সময় যাচাই করেন এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়।

পরবর্তীতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তার নাম একটি ‘ওয়াচলিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ পরিস্থিতিকে অপমানজনক মনে করে ঢাকার উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

উল্লেখ্য, এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার Pawan Badhe-কে তলব করা হয়। অন্যদিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ক্রিনিংয়ের সময় তার নাম নজরদারি তালিকায় উঠে আসায় এই বিলম্ব ও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল।