দামুড়হুদা উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা রাফেজা’র বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৩ ৩০৬ বার পঠিত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের কর্মকর্তা রাফেজা খাতুনের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠে। যা চুয়াডাঙ্গার স্থানীয়সহ একাধিক দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের পক্ষে থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যাইনি! তবে এবার রাফেজা খাতুনের বিরুদ্ধে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের জেলা কমান্ড্যান্ট ও দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত ২৯শে অক্টোবর লিখিত অভিযোগ করেছেন শুকচাঁদ নামের এক আনসার সদস্য।
অভিযোগকারী আনসার সদস্য শুকচাঁদ জানান, গত ২০ অক্টোবর সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গা উৎসবে পুজো মন্ডোপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ প্রকৃত আনসার সদস্য বাচাই করেন। তাতে আমিসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করে। যাচাই-বাছাইকৃত আনসার সদস্যদের তালিকা না করে সদস্য নয় এমন অনেককেই ডিউটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন দামুড়হুদা উপজেলা কমকর্তা রাফেজা খাতুন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৩ মার্চ জীবননগর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত সেখানে ১৬ জনের একটা গ্রুপ দেবেন বলে আমাকে ৫’শ টাকা করে সদস্যদের কাছ থেকে নিতে বলেন। সেই অনুযায়ী আমিসহ মোট ১৬ জনের কাছ থেকে নেওয়া ৮ হাজার টাকা রাফেজা ম্যাডামের হাতে তুলে দিই। টাকা দেওয়ার পরেও তিনি ১৬ জনের পরিবর্তে আমিসহ একজনকে ওই নির্বাচনে ডিউটিতে পাঠান। টাকা দিয়েও ডিডিটিতে যেতে না পেরে বাকীরা তাদের দেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে, তিনি পরবর্তীতে ডিউটি পাইয়ে দিবেন বললেও ডিউটি বা টাকা কোনটাই ফেরত দেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আনসার সদস্য বলেন, তিনি যোগদানের পর থেকে সদস্য নন এমন অনেক সদস্য নির্বাচন, পুজোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিউটি পাইয়ে দিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে ডিউটিতে পাঠিয়েছেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে তবে এই কর্মকর্তা নিজের মন মতো তার অনিয়মের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকা প্রকৃত আনসার সদস্যরা চেয়ে থাকার পরেও ভুয়া আনসার সদস্যদের জন্য প্রকৃতরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাঁরা আরও বলেন, এ কর্মকর্তার আমলে এই অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী নারী আনসার সদস্য বিধবা জাহানারা বেগম নামের একজন দীর্ঘদিন যাবত কাজ করতেন। তিনার কাজটিও রাফেজা আপা কেড়ে নিয়ে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। ওই পরিচ্ছন্নতা কর্মী বিধবা নারী আনসার সদস্যের অপরাধ ছিলো সাংবাদিকরা তার নিকট জানতে চেয়েছিলেন তাকে মাসিক কত টাকা দেওয়া হচ্ছে, তিনি উত্তরে বলেছিলেন ৫’শ টাকা। তার দেওয়া তথ্য মতে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান চালালে জানা যায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাহানারা খাতুনের বেতন সরকার প্রদান করছেন ২ হাজার ৫’শ টাকা। অথচ তাকে দেওয়া হতো ৫’শ টাকা করে। আর এই অপরাধে তার চাকরি থেকে বাড়ি পাঠিয়েছেন রাফেজা আপা।
দামুড়হুদা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রাফেজা খাতুনের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি উল্লেখিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডিউটি যেতে কারো কাছে কোন টাকা নেওয়া হয়নি।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা মিতা’র সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগের সতত্যা নিশ্চিত করে জানান, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























