ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দুই বিমানবন্দর থেকে সোয়া ৩ কোটি টাকার সোনা, মদ ও নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ Logo কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, ৫ জনের মৃত্যু Logo সাদাছড়ি দেখেও থামে না গাড়ি, মেলে না কাজ Logo বাংলাদেশের বাজারে অনার এক্স৭ই ও এক্স৬ই Logo পপুলার লাইফের ময়নমসিংহ অঞ্চলের বীমা গ্রাহকের বীমা দাবীর ৬ কোটি ৪৩ লক্ষ ১৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ উৎসব ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo লাওস-ভিয়েতনামে ক্যানসারের ওষুধ পাচার, চীনা নাগরিকসহ গ্রেফতার ৪ Logo আইএমএফের ঋণ পেতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী Logo পাকিস্তানে স্কুল ভবন ধস, নিহত ২১ Logo নওগাঁয় পাচারকালে আটক সার প্রকাশ্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি ॥ বিক্রিত অর্থ গেলো সরকারি কোষাগারে Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পচা ডিম দিয়ে বেকারি পণ্য তৈরি জরিমানা ১ লক্ষ টাকা

ঢাকাতেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থাকবে, জানাল সরকার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪৪ বার পঠিত

রাজধানী ঢাকাকে পুরোপুরি লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখার নীতি থেকে সরকার ধীরে ধীরে সরে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার মতে, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজধানীতেও সীমিত পরিসরে লোডশেডিং মেনে নিতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে এবং তখন বর্তমানের মতো লোডশেডিংয়ের চাপ থাকবে না বলে আশা করছে সরকার।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হতো। তবে রাজধানী ঢাকাকে প্রায় পুরোপুরি এর বাইরে রাখা হয়েছিল। এর পেছনে ঢাকার মানুষের তুলনামূলক বেশি প্রভাব ও সামাজিক পুঁজির বিষয়টি কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফলে রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে লোডশেডিং নিয়ে এক ধরনের ভিন্ন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তুলনা করতে গিয়ে ২০২৩ ও ২০২৬ সালের জুন, জুলাই ও আগস্টের গড় লোডশেডিংয়ের তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, শেখ হাসিনার সরকারের শেষ পূর্ণ বছর হিসেবে ২০২৩ সালকে বিবেচনা করে ওই সময়ের সঙ্গে চলতি বছরের তথ্য তুলনা করা হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে দেশে দৈনিক গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। চলতি বছরের একই মাসে সেই গড় কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমেছে। জুলাইয়েও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড়ে ৬১৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং হলেও ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০২৩ সালের আগস্টে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

আগস্টে লোডশেডিং হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে যে বিশেষ সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটির কথা উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই মাসের পরিস্থিতি অন্য দুই মাসের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। তবে জুন ও জুলাইয়ের হিসাব বিবেচনায় নিলে চলতি বছরে গড় লোডশেডিং ২০২৩ সালের তুলনায় কম ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। তখন বর্তমানে যে মাত্রায় সংকট দেখা যাচ্ছে, সেটি আর থাকবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানীতে লোডশেডিং প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো ঢাকাকেও কিছুটা বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। তবে ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় নগরী এবং এখানে শিল্প-বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে রাজধানী কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকাকে একেবারে লোডশেডিংমুক্ত রাখব’—এমন নীতি থেকে সরকার সরে আসছে। আর সেই পরিবর্তিত অবস্থানের কারণেই বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিছুটা লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে।

ট্যাগস :

ঢাকাতেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থাকবে, জানাল সরকার

আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী ঢাকাকে পুরোপুরি লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখার নীতি থেকে সরকার ধীরে ধীরে সরে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার মতে, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজধানীতেও সীমিত পরিসরে লোডশেডিং মেনে নিতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে এবং তখন বর্তমানের মতো লোডশেডিংয়ের চাপ থাকবে না বলে আশা করছে সরকার।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হতো। তবে রাজধানী ঢাকাকে প্রায় পুরোপুরি এর বাইরে রাখা হয়েছিল। এর পেছনে ঢাকার মানুষের তুলনামূলক বেশি প্রভাব ও সামাজিক পুঁজির বিষয়টি কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফলে রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে লোডশেডিং নিয়ে এক ধরনের ভিন্ন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তুলনা করতে গিয়ে ২০২৩ ও ২০২৬ সালের জুন, জুলাই ও আগস্টের গড় লোডশেডিংয়ের তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, শেখ হাসিনার সরকারের শেষ পূর্ণ বছর হিসেবে ২০২৩ সালকে বিবেচনা করে ওই সময়ের সঙ্গে চলতি বছরের তথ্য তুলনা করা হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে দেশে দৈনিক গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। চলতি বছরের একই মাসে সেই গড় কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমেছে। জুলাইয়েও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড়ে ৬১৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং হলেও ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০২৩ সালের আগস্টে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

আগস্টে লোডশেডিং হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে যে বিশেষ সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটির কথা উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই মাসের পরিস্থিতি অন্য দুই মাসের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। তবে জুন ও জুলাইয়ের হিসাব বিবেচনায় নিলে চলতি বছরে গড় লোডশেডিং ২০২৩ সালের তুলনায় কম ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। তখন বর্তমানে যে মাত্রায় সংকট দেখা যাচ্ছে, সেটি আর থাকবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানীতে লোডশেডিং প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো ঢাকাকেও কিছুটা বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। তবে ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় নগরী এবং এখানে শিল্প-বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে রাজধানী কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকাকে একেবারে লোডশেডিংমুক্ত রাখব’—এমন নীতি থেকে সরকার সরে আসছে। আর সেই পরিবর্তিত অবস্থানের কারণেই বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিছুটা লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে।