ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গাজার জন্য জাতিসংঘের বিকল্প হতে পারে
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ কণ্ঠ।। বুধবার।। ২১.০১.২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে তার নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, এবং সুতরাং এই নতুন সংস্থা বিশ্ব শান্তি এবং গাজা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, আর আমাদের এই নতুন বোর্ড তার শূন্যতা পূরণ করতে পারে।’ ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি আজীবন দায়িত্ব পালন করবেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে নানা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, যখন তার ন্যাটো এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে চলমান উত্তেজনা রয়েছে, তখন জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার এই পদক্ষেপকে অনেকেই বিপজ্জনক হিসেবে দেখছেন।
হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যে এই বোর্ডের একটি ‘প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ড’ গঠন করেছে, যার মধ্যে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার অন্তর্ভুক্ত। খসড়া সনদ অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই পদটি আজীবন বা অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে, এবং তাঁকে শুধুমাত্র নিজেই পদত্যাগ করলে অথবা নির্বাহী বোর্ডের সর্বসম্মত ভোটে অপসারণ করা যাবে।
এই বোর্ডে সদস্যপদ পাওয়ার শর্তগুলিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশগুলোর জন্য ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে, যা গাজার পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে অনেক বিশ্লেষক একে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো ক্লাবের সদস্যপদ কেনার মতো একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডের মতো দেশগুলি ইতিমধ্যে এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের মতে জাতিসংঘের ভূমিকা হুমকির মুখে পড়বে যদি এমন একটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করে।
এদিকে, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ কখনোই জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হতে পারবে না। সাবেক মধ্যপ্রাচ্য আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলারও জানিয়েছেন, জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থার সঙ্গে ট্রাম্পের এই নতুন বোর্ডের তুলনা করা বাস্তবসম্মত নয়।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ২০২৬ সালের শেষে এই বোর্ডের জন্য একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হতে পারে, এবং কিছু দেশ যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইতিমধ্যেই যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অনুদান অনেক দেশের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং বিশ্বব্যাপী অনেক কূটনৈতিকও এটিকে মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।
























