জামালপুরে যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ৩ বগিতে আগুনের ঘটনায় মামলা
- আপডেট সময় : ০৬:৫২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ২১৬ বার পঠিত

মোস্তাক আহমেদ মনির, জামালপুর প্রতিনিধি :
জামালপুরের সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগিতে আগুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল সকালে সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী মাস্টার আব্দুস সালাম বাদি হয়ে জামালপুর জিআরপি থানায় হরতাল সমর্থকদের (অজ্ঞাত) বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে শনিবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, জিআরপি ও থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী মাস্টার আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা থেকে তারাকান্দি গামী আন্তঃনগর যমুনা ট্রেন রাত ১ টা ৭ মিনিটে সরিষাবাড়ী স্টেশনে থামে। ৩ মিনিট পর ১ টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি তারাকান্দির উদ্দেশ্যে ছাড়লে স্টেশন অতিক্রম করার আগেই আগুন ও ধোয়া ধোয়া বলে চিৎকার করে যাত্রীরা। পরে ট্রেনটির পরিচালক আউটার সিগনালে দাড় করিয়ে দেয়। তখন ট্রেনের দুইটি বগিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিলো। এসময় ৯৯৯ এ কল দিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই, যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ক, খ পুরোপুরি ও গ বগির আংশিক পুড়ে যায়। পরে সরিষাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট রাত দেড়টা থেকে শুরু করে প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এদিকে আন্তঃনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি তারাকান্দি স্টেশন থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ৬ টায় পুড়ে যাওয়া তিনটি বগিসহ ঢাকার দিকে ছেড়ে যায়।
এ বিষয়ে জামালপুর রেলওয়ে থানার (জিআরপি) অফিসার ইনচার্জ গোলজার হোসেন বলেন, কে বা কারা ট্রেনে আগুন দিয়েছে প্রাথমিকভাবে তা বলা যাচ্ছে না, তবে হরতাল সমর্থনকারীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী মাস্টার আব্দুস সালাম বাদি হয়ে অজ্ঞাত নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত চলছে এবং দোষী ব্যক্তিরা শনাক্ত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরিষাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র অফিসার রুহুল আমিন বলেন, জামালপুরের সরিষাবাড়িতে যমুনা এক্সপ্রেস নামক ট্রেনের ৩টি বগিতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাত দেড়টায় পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানো শুরু করে। প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে ট্রেনে আগুনের ঘটনায় চারজন নারী যাত্রী আহত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহমিদা জামান তিথি বলেন, রাত ১.২০টার দিকে হাসপাতালে চারজন নারী আহত হয়ে এসেছিলেন। এরমধ্যে দুইজনকে ভর্তি ও দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। আহতরা হলেন-উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের জহির উদ্দিনের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৫০), পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্র বয়ড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের স্ত্রী আশিকা সুলতানা (৩০), তারাকান্দি গ্রামের সোহেল মিয়ার স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৪) ও ইয়ার মাহমুদের স্ত্রী জেলী বেগম (৫০)।





















