ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জাবিতে নিয়ম ভেঙে চুক্তিভিত্তিক রেজিস্টার পদে পুনর্বহাল

ইউসূফ জামিল, জাবি প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪ ৩৫ বার পঠিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে রেজিস্ট্রার আবু হাসানকে চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অ্যাক্টের ১২ (৬) ধারা বলে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই থেকে আবু হাসানকে ছয় মাসের জন্য রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভায় তাকে পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আবু হাসান ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যোগ দেন। পরে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি উপ-রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা, টিচিং শাখা ও কাউন্সিল শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। আগামী ৩১ মে তার কর্মজীবন শেষ হয়। গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০তম সিন্ডিকেট সভায় সকল পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সভার ১৭ নম্বর আলোচ্যসূচির বিবিধ (ক)-তে বলা হয়, ‘এখন থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনও পর্যায়ে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।’
এদিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকেও নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের ২০ মার্চ ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছে যে কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত দায়িত্ব বা চলতি দায়িত্ব প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি/সামরিক কর্মকর্তা এবং ক্ষেত্র বিশেষে কলেজের শিক্ষকগণ থেকে চুক্তিভিত্তিক/খণ্ডকালীন হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যাদি সুচারুরূপে সম্পাদনে বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধান অনুযায়ী উল্লিখিত পদসমূহে পূর্ণকালীন নিয়োগ প্রদান প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, প্রতিষ্ঠাকাল হতে দশ বছর উত্তীর্ণ হয়েছে এমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গকে বর্ণিত পদসমূহে অবিলম্বে বিধি মোতাবেক পূর্ণকালীন নিয়োগ প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনকে অবহিত করার অনুরোধ করা হলো।’
সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও নিয়ম-নীতি থাকার পরেও তার তোয়াক্কা না করে চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, অবসরপ্রাপ্ত একজনকে পুনরায় রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য রেজিস্ট্রার প্রার্থীদের প্রতি অবিচার।
বর্তমান রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছেন আবু হাসান। গত ৩১ মে তার মেয়াদ শেষ হলেও  দায়িত্ব পালনকালে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের আস্থা অর্জন করায় নিয়ম ভেঙে আবু হাসানকে পুনরায় রেজিস্ট্রার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলামের দেখানো পথে হাটছেন। ইউজিসি এবং সিন্ডিকেট থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও উপাচার্য অবসরগ্রহণ করা ব্যক্তিকে পুনরায় নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা যারা দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেবা দিয়ে আসছি, আমাদের জন্য এটা অবিচার। রেজিস্ট্রার হওয়ার মতো যথেষ্ট যোগ্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছে, তারপরও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া এক ধরনের প্রহসন।’
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ এর সংবিধির অধ্যাদেশের ২৩ ধারায় রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কর্মকর্তা হবেন। তবে রেজিস্ট্রার আবু হাসান ক্যাম্পাসে তার বরাদ্দকৃত আবাসিক ভবনে থাকেন না। তিনি প্রতিদিন ঢাকা থেকে অফিস করেন। তবে যাতায়াতের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করছেন।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে ইউজিসি’র দেওয়া নির্দেশনা নিঃসন্দেহে অমান্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে ইউজিসির সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, ‘যেসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পার করেছে তারা যোগ্যতা ও জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারে৷ তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চেয়ে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে করি। যেহেতু এ ব্যাপারে ইউজিসির একটা নির্দেশনা আছে আর ইউজিসি একটা নির্দেশনা অনেক চিন্তা ভাবনা করে দেয়, সেহেতু এই মোতাবেক কাজ না হলে নিঃসন্দেহে সেটা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কর্মকর্তা হবেন, সুস্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। কিন্তু তৎকালীন ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু হাসান ক্যাম্পাসের কোনো বাসায় না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এর মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৯৭৩ অধ্যাদেশ অমান্য করেছিল। নিয়োগ পাওয়ার পরও তিনি ক্যাম্পাসে বরাদ্দকৃত বাসায় উঠেননি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ক্যাম্পাসে থাকা নিশ্চিত করেনি।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, ‘২০২৩ সালেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আমার কাছে তার প্রমাণ রয়েছে। যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে। আমরা স্বায়ত্তশাসিত তাই সিন্ডিকেট থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
২০১৬ সালে ৩০০তম সিন্ডিকেটে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘চলতি মাসে যে সিন্ডিকেট ছিল সেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

জাবিতে নিয়ম ভেঙে চুক্তিভিত্তিক রেজিস্টার পদে পুনর্বহাল

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে রেজিস্ট্রার আবু হাসানকে চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অ্যাক্টের ১২ (৬) ধারা বলে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই থেকে আবু হাসানকে ছয় মাসের জন্য রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভায় তাকে পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আবু হাসান ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যোগ দেন। পরে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি উপ-রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা, টিচিং শাখা ও কাউন্সিল শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। আগামী ৩১ মে তার কর্মজীবন শেষ হয়। গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০তম সিন্ডিকেট সভায় সকল পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সভার ১৭ নম্বর আলোচ্যসূচির বিবিধ (ক)-তে বলা হয়, ‘এখন থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনও পর্যায়ে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।’
এদিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকেও নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের ২০ মার্চ ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছে যে কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত দায়িত্ব বা চলতি দায়িত্ব প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি/সামরিক কর্মকর্তা এবং ক্ষেত্র বিশেষে কলেজের শিক্ষকগণ থেকে চুক্তিভিত্তিক/খণ্ডকালীন হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যাদি সুচারুরূপে সম্পাদনে বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধান অনুযায়ী উল্লিখিত পদসমূহে পূর্ণকালীন নিয়োগ প্রদান প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, প্রতিষ্ঠাকাল হতে দশ বছর উত্তীর্ণ হয়েছে এমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গকে বর্ণিত পদসমূহে অবিলম্বে বিধি মোতাবেক পূর্ণকালীন নিয়োগ প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনকে অবহিত করার অনুরোধ করা হলো।’
সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও নিয়ম-নীতি থাকার পরেও তার তোয়াক্কা না করে চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, অবসরপ্রাপ্ত একজনকে পুনরায় রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য রেজিস্ট্রার প্রার্থীদের প্রতি অবিচার।
বর্তমান রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছেন আবু হাসান। গত ৩১ মে তার মেয়াদ শেষ হলেও  দায়িত্ব পালনকালে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের আস্থা অর্জন করায় নিয়ম ভেঙে আবু হাসানকে পুনরায় রেজিস্ট্রার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলামের দেখানো পথে হাটছেন। ইউজিসি এবং সিন্ডিকেট থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও উপাচার্য অবসরগ্রহণ করা ব্যক্তিকে পুনরায় নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা যারা দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেবা দিয়ে আসছি, আমাদের জন্য এটা অবিচার। রেজিস্ট্রার হওয়ার মতো যথেষ্ট যোগ্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছে, তারপরও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া এক ধরনের প্রহসন।’
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ এর সংবিধির অধ্যাদেশের ২৩ ধারায় রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কর্মকর্তা হবেন। তবে রেজিস্ট্রার আবু হাসান ক্যাম্পাসে তার বরাদ্দকৃত আবাসিক ভবনে থাকেন না। তিনি প্রতিদিন ঢাকা থেকে অফিস করেন। তবে যাতায়াতের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করছেন।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে ইউজিসি’র দেওয়া নির্দেশনা নিঃসন্দেহে অমান্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে ইউজিসির সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, ‘যেসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পার করেছে তারা যোগ্যতা ও জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারে৷ তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চেয়ে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে করি। যেহেতু এ ব্যাপারে ইউজিসির একটা নির্দেশনা আছে আর ইউজিসি একটা নির্দেশনা অনেক চিন্তা ভাবনা করে দেয়, সেহেতু এই মোতাবেক কাজ না হলে নিঃসন্দেহে সেটা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কর্মকর্তা হবেন, সুস্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে। কিন্তু তৎকালীন ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু হাসান ক্যাম্পাসের কোনো বাসায় না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এর মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৯৭৩ অধ্যাদেশ অমান্য করেছিল। নিয়োগ পাওয়ার পরও তিনি ক্যাম্পাসে বরাদ্দকৃত বাসায় উঠেননি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ক্যাম্পাসে থাকা নিশ্চিত করেনি।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, ‘২০২৩ সালেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আমার কাছে তার প্রমাণ রয়েছে। যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে। আমরা স্বায়ত্তশাসিত তাই সিন্ডিকেট থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
২০১৬ সালে ৩০০তম সিন্ডিকেটে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘চলতি মাসে যে সিন্ডিকেট ছিল সেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’