ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আইফোন ১৮-এ থাকছে নতুন আকর্ষণীয় চমক! Logo শিক্ষা উপদেষ্টা ক্ষুব্ধ: বাড়তি বই-পরীক্ষা নিয়ে সমালোচনা Logo ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হলো ইসলামিক ব্যাংকিং বিভাগের কোর্স Logo গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে প্রশ্নফাঁসের কোনো সাক্ষ্য মেলেনি: শিক্ষা অধিদপ্তর Logo ব্যাংক সিস্টেমের বাইরে ৩ লাখ কোটি টাকা, বললেন মাসরুর আরেফিন Logo বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে ক্ষুব্ধ পোশাক খাত: তিন শীর্ষ সংগঠন রুখে দাঁড়ালো Logo ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ, কার ভাগে কত টাকা? Logo শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ Logo ব্রাজিল বিশ্বকাপ দলে নেইমারের স্থান: আসন্ন চ্যালেঞ্জ Logo পিসিবির চিঠি: বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াল আইসিসি

ছয় পণ্যে শুল্কছাড়, দাম কমেছে একটির

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৭৩ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

বাজারে ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরাতে গত আড়াই মাসে ছয়টি নিত্যপণ্যে শুল্কছাড় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু ও ডিমে শুল্ক–কর ছাড় দেওয়া হলেও শুধু দাম কমেছে ডিমের। বেড়েছে চাল, তেল ও চিনির দাম। স্থিতিশীল রয়েছে আলু ও পেঁয়াজের দাম।

ছয় পণ্যে শুল্ক–করে ছাড় থাকলেও বেশির ভাগ পণ্যের দাম বাড়তি। সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কছাড়ে কেনা অধিকাংশ পণ্য দেশে এসে পৌঁছায়নি, যে কারণে দাম কমছে না। বিগত কয়েকদিনে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। অন্য পণ্যের চড়া দামের কারণ দেশের সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি। এছাড়া কিছু পণ্যের জন্য অসময়ে বৃষ্টি ও বন্যাকে দায়ী করছেন তারা।

উত্তরাঞ্চলে বন্যার পর থেকে মোকামে চালের দাম বাড়তি। যার প্রভাবে চলতি সপ্তাহে ঢাকার বাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যেই রোববার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর শুল্ক কমিয়েছে। এনবিআর জানায়, বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানো ও চালের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান তিন ধরনের শুল্ক কমানো হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে ২৫ থেকে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। আর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ২০ শতাংশ কমিয়ে ২৫ থেকে করা হয়েছে ৫ শতাংশ। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ আগাম কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-কর কমানোর ফলে আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম ১৪ টাকা ৪০ পয়সা কমবে।

বিগত জুলাই-আগস্টে দেশে আন্দোলন চলা অবস্থায় পরিবহন সংকট ও নানা কারণে এক দফা বাড়ার পর এখন আবার নতুন করে বেড়েছে চালের দাম। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা বেড়েছে।

মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার ভোজ্যতেল ও চিনিতে শুল্ক–কর ছাড় দিয়েছে। তবে এর প্রভাব এখনো বাজারে পড়েনি। উল্টো খোলাবাজারে পণ্য দুটির দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহে চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ৩-৪ টাকা। তেলের দাম বেড়েছে লিটারপ্রতি ৫ টাকা।

সরকার ৮ ও ১৭ অক্টোবর দুই দফায় চিনির শুল্ক–কর কমায়। সবশেষ দফায় এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, চিনি আমদানিতে খরচ কমবে কমবেশি ১১ টাকা। এছাড়া পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পরিশোধিত পাম তেলের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পাম তেলের আমদানি পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে তেলের দামও বেশ কমার কথা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘শুধু শুল্ক কমানো নয়, ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে হলে কঠোরভাবে কোম্পানিগুলোকে মনিটরিং করতে হবে। বাজারও তদারকি করতে হবে নিয়মিত। কারণ আমাদের সব শ্রেণির ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার প্রবণতা রয়েছে।’

ট্যাগস :

ছয় পণ্যে শুল্কছাড়, দাম কমেছে একটির

আপডেট সময় : ০২:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

বাজারে ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরাতে গত আড়াই মাসে ছয়টি নিত্যপণ্যে শুল্কছাড় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু ও ডিমে শুল্ক–কর ছাড় দেওয়া হলেও শুধু দাম কমেছে ডিমের। বেড়েছে চাল, তেল ও চিনির দাম। স্থিতিশীল রয়েছে আলু ও পেঁয়াজের দাম।

ছয় পণ্যে শুল্ক–করে ছাড় থাকলেও বেশির ভাগ পণ্যের দাম বাড়তি। সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কছাড়ে কেনা অধিকাংশ পণ্য দেশে এসে পৌঁছায়নি, যে কারণে দাম কমছে না। বিগত কয়েকদিনে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। অন্য পণ্যের চড়া দামের কারণ দেশের সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি। এছাড়া কিছু পণ্যের জন্য অসময়ে বৃষ্টি ও বন্যাকে দায়ী করছেন তারা।

উত্তরাঞ্চলে বন্যার পর থেকে মোকামে চালের দাম বাড়তি। যার প্রভাবে চলতি সপ্তাহে ঢাকার বাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যেই রোববার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর শুল্ক কমিয়েছে। এনবিআর জানায়, বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানো ও চালের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান তিন ধরনের শুল্ক কমানো হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে ২৫ থেকে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। আর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ২০ শতাংশ কমিয়ে ২৫ থেকে করা হয়েছে ৫ শতাংশ। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ আগাম কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। চাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-কর কমানোর ফলে আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম ১৪ টাকা ৪০ পয়সা কমবে।

বিগত জুলাই-আগস্টে দেশে আন্দোলন চলা অবস্থায় পরিবহন সংকট ও নানা কারণে এক দফা বাড়ার পর এখন আবার নতুন করে বেড়েছে চালের দাম। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা বেড়েছে।

মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার ভোজ্যতেল ও চিনিতে শুল্ক–কর ছাড় দিয়েছে। তবে এর প্রভাব এখনো বাজারে পড়েনি। উল্টো খোলাবাজারে পণ্য দুটির দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহে চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ৩-৪ টাকা। তেলের দাম বেড়েছে লিটারপ্রতি ৫ টাকা।

সরকার ৮ ও ১৭ অক্টোবর দুই দফায় চিনির শুল্ক–কর কমায়। সবশেষ দফায় এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, চিনি আমদানিতে খরচ কমবে কমবেশি ১১ টাকা। এছাড়া পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পরিশোধিত পাম তেলের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পাম তেলের আমদানি পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে তেলের দামও বেশ কমার কথা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘শুধু শুল্ক কমানো নয়, ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে হলে কঠোরভাবে কোম্পানিগুলোকে মনিটরিং করতে হবে। বাজারও তদারকি করতে হবে নিয়মিত। কারণ আমাদের সব শ্রেণির ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার প্রবণতা রয়েছে।’