ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ইমনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ Logo বড়ইয়ায় নিজস্ব অর্থায়নে দেড় কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করলেন সমাজসেবক আতিকুর রহমান আতিক Logo অন্ধকারে নিমজ্জিত মিনি পর্যটনখ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া টু বিজয়নগর সড়ক, ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা Logo বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম ১৭ মিনিট, শাকিরা-ম্যাডোনা-জাস্টিন বিবারের পারফরম্যান্স নিশ্চিত Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার গৃহবন্দী, ৩ দিন অনাহারে শিশুসহ পরিবারের ৬ সদস্য  Logo ধামরাইয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি Logo ইরান সংকটে ট্রাম্পের সামনে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা, বলছে নিউইয়র্ক টাইমস Logo রাজাপুরের বড়ইয়ায় মেম্বার প্রার্থী আব্দুল হালিম হাওলাদারের মতবিনিময় সভা Logo অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানববন্ধন

চূড়ান্ত সমঝোতায় ইরান পেতে পারে ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিষেধাজ্ঞা-সুবিধা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ১১০ বার পঠিত

একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির আওতায় ইরান প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল সুবিধা এবং দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক মুখপাত্র। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, এই ব্যবস্থার পরও কিছু নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

চুক্তির ফলে ইরান পূর্বে স্থগিত বা ফ্রিজ করা তহবিলের একটি অংশ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই ধাপে ৬ বিলিয়ন ডলার করে মোট ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য গড়ে ওঠে। পরে সুইজারল্যান্ডে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করা হয় এবং ইরানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করা হবে। পরবর্তী ৬০ দিনের সমঝোতা মেয়াদে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও অবমুক্ত তহবিলের সম্মিলিত মূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তবে এই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে এই অর্থ ব্যয় করতে পারবে না। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন যে অবাধ অর্থের একটি অংশ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর হাতে যেতে পারে। এ কারণে তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্র মূলত খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য মানবিক প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, এই অর্থ অনুমোদিত আর্থিক ব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বৈধ বাজার চ্যানেলের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের কাজে ব্যবহার করতে হবে। ইরান প্রকাশ্যে এই শর্তের বিরোধিতা না করলেও, দেশটি এই ব্যবস্থাকে কতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করছে তা এখনও পরিষ্কার নয়।

আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশা করছে, সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা লাঘব করবে।

সূত্র: আল-জাজিরা

ট্যাগস :

চূড়ান্ত সমঝোতায় ইরান পেতে পারে ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিষেধাজ্ঞা-সুবিধা

আপডেট সময় : ০৮:২৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির আওতায় ইরান প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল সুবিধা এবং দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক মুখপাত্র। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, এই ব্যবস্থার পরও কিছু নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

চুক্তির ফলে ইরান পূর্বে স্থগিত বা ফ্রিজ করা তহবিলের একটি অংশ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই ধাপে ৬ বিলিয়ন ডলার করে মোট ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য গড়ে ওঠে। পরে সুইজারল্যান্ডে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করা হয় এবং ইরানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করা হবে। পরবর্তী ৬০ দিনের সমঝোতা মেয়াদে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও অবমুক্ত তহবিলের সম্মিলিত মূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তবে এই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে এই অর্থ ব্যয় করতে পারবে না। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন যে অবাধ অর্থের একটি অংশ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর হাতে যেতে পারে। এ কারণে তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্র মূলত খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য মানবিক প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, এই অর্থ অনুমোদিত আর্থিক ব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বৈধ বাজার চ্যানেলের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ের কাজে ব্যবহার করতে হবে। ইরান প্রকাশ্যে এই শর্তের বিরোধিতা না করলেও, দেশটি এই ব্যবস্থাকে কতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করছে তা এখনও পরিষ্কার নয়।

আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশা করছে, সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা লাঘব করবে।

সূত্র: আল-জাজিরা