সংবাদ শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গায় নুরুল হকারের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় জর্জরিত তিন গ্রামের বাসিন্দা
বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
- আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৫৯ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার গোবিন্দহুদা গ্রামের নুরুল হক পেশকারের দায়েরকৃত হয়রানিরমূলক মিথ্যা মামলায় জর্জরিত উপজেলা সদর ইউনিয়নের চিৎলা- গোবিন্দহুদা ও মোক্তারপুর গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক বাসিন্দাগণ। মামলা আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে ওই তিন গ্রামের প্রায় ২২ টিরও বেশি পরিবার পুরুষ শূন্য অবস্থায় মানবতার জীবন-যাপন করছেন বলে জানা গেছে। পুরুষ শূন্য পরিবারগুলোর সদস্য শিশু সন্তান,পিতা-মাতা সহ নারীরাও রয়েছেন আতঙ্কিত।
অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য মতে,জেলার দামুড়হুদা উপজেলার সদর ইউনিয়নে গোবিন্দহুদা গ্রামের মৃত.বরকত মন্ডল ছেলে নুরুল হক পেশকার গং এর সাথে নুরু বক্স মন্ডলে ছেলে খাজা আহমেদ গং এর দীর্ঘদিন জমা- জমি সংক্রান্তের জেরে চলে আসছেন।ওই বিরোধের জেরেই গোবিন্দহুদা গ্রামের নুরুল হক পেশকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে খাজা আহমেদ গং এর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা হয়রানির মূলক মামলা দিয়ে আসছেন। যার ফলশ্রুতিতে তৎকালীন দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আলমগীর কবির থাকা কালে নুরুল হক পেশকার নিজেই বাদী হয়ে থানাতে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই সময়ে দায়েরকৃত এজহারটি তদন্ত শেষে কোন সত্যতা না পাওয়ায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।পরবর্তীতে গত ৩ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গায় বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে আবারও একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেনতিনি।যার নাম্বার ৫৬৬/২৪।তবে এর পরেও তিনি ক্ষ্যান্ত থাকেন নি।দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিরোধ পূর্ণ জমিতে মাল্টা ও পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন।যেখানে কোন সময় অপর পক্ষ কোন সময় যায়নি।এরপরেও তিনি গত ২১ অক্টোবর মালটা বাগান তসরুপ করা সহ পুকুর থেকে মাছ চুরির অভিযোগে আবারও ২২ জনের নাম উল্লেখ করে আবারও একটি মামলা দিয়েছেন বলে জেনেছি। পেশকার নুরুল হকের কাছে আমাদের পরিবার গুলো অসহায়,মিথ্যা এভাবে মিথ্যার জয় হবে কোনদিনই ভাবেনি বলে আক্ষেপ করেন ভুক্তভোগী সহ পরিবারের সদস্যরা।অথচ:নুরুল হক প্রতিনিয়তই এভাবেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন।কারণ তিনি চুয়াডাঙ্গায় বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে পেশকার হিসেবে কর্মরত আছেন,সেজন্যে তার অনেক ক্ষমতা।প্রায় ১৫ দিন পূর্বে তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী সহ গ্রামবাসী মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে দামুড়হুদা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।পরবর্তীতে এরই কিছুদিন পর চিৎলা – গোবিন্দহুদা – মোক্তারপুর গ্রামের ভুক্তভোগী সহ তাদের পরিবার দামুড়হুদা- মুজিবনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক চিৎলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।তবুও তার ক্ষমতার দাপটের বলে প্রতিনিয়তই হেরে যাচ্ছে সত্য।
সরোজমিনে একাধিক ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নুরুল হক পেশকারের হয়রানিরমূলক মিথ্যা মামলায় ঘর-বাড়ি,সংসার ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। তাদের পুরো বাড়ি গুলো শুনসান নিরবতা। শিশু, বৃদ্ধা নারী ছাড়া কেউই বাড়িতে নেই।সদস্যর তাদের নিজ বাড়িতে থাকবার পরেও চোখে মুখে লক্ষ্য করা গেছেন ভয়ের ছাপ।সেজন্যেই ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অপরিচিত কোন মানুষকে দেখলেই ভয় আতঙ্কে ঘরের মধ্যে চলে যাচ্ছেন তারা।পেশকার নুরুলের ভয়ে আতঙ্কিত ভুক্তভোগী সহ গ্রামবাসীদের অনেকেরই,তার ভয়ে গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষ মুখ খুলতেও ভয় পান। প্রতিবেদকের একাধিকবার অনুরোধের পর কথা হয় ভুক্তভোগী সহ সাধারণ বেশ কিছু নারী ও পুরুষের সাথে। যাদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগীদের স্ত্রী,প্রতিবেশী।এদের মধ্যে হতে একধিক জন বলে ওঠেন আমাদের সন্তান- স্বামী বাড়ি থাকতে পারছেন না,বাড়ি পুরুষ শূন্য। বাড়িতে থাকতে ভয় লাগছে,সেই সাথে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত করে এমন মিথ্যা হয়রানির মামলা থেকে যেন সকলেই রেহাই দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রে জানা যায় ,জমি সংক্রান্ত বিষয়ের জেরে উভয়ের মধ্যে দন্ড রয়েছেন দীর্ঘদিনের ।উভয়ই আওয়ামী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকলেও রাজনৈতিক ও ক্ষমতার দাপটেও নুরুল হক পেশকার কাছে অপর অর্থাৎ খাজা আহমেদ গং এর পক্ষ দূর্বল।তাদের মতে,নুরুল হক পেশকারকে একজন মামলাবাজের জনক বললেও ভুল হবেনা।কেউ যদি ভালো কাজের পক্ষে থেকে আইন পরিপন্থি কোন কাজের বিপক্ষে থেকে তার বিরুদ্ধে যায়,তাও তিনি মামলা ঠুকে দিয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখান।এলাকায় তিনি চিহ্নিত ভূমিদস্যু আর মামলাবাজ হিসেবে বেশ সুপরিচিত।বিগত দিনে তার ভূমিদস্যুতায় অসংখ্য তিন ফসিল কৃষি জমি ধ্বংস হয়েছে।এমন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও তার বালু – মাটি কাটা বন্ধ করতে পারেনি কেউই।এর আগে ফসলি জমি হতে মাটি খনন করে ইটের ভাঁটাই বিক্রি করেছিলে,সদর ইউনিয়নের মোক্তারপুর গ্রামের মধ্যে দিয়ে তার মাটি বহনকৃত অবৈধযান ট্রাক্টরের বেপরোয়া গতি রোধ ও গ্রামীন সড়ক রক্ষায় মোক্তারপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবাদ করেছিলেন,এমন অপরাধে অভিযুক্ত নুরুল হক পেশকার তার নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা ঠুকে দেন,যে মামলা এখনো চলমান রয়েছেন বলেও জানা গেছে।মামলাবাজ আর ক্ষমতার দাপটের জন্য গ্রামে বেশির ভাগ মানুষ তাকে ভালো চোখে দেখেন না।






















