ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চিত্রনায়িকা সুচরিতার দিনকাল

আয়েশা আক্তার:
  • আপডেট সময় : ০৭:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪ ২৯ বার পঠিত

‘ও আমার রসিয়া বন্ধুরে, তুমি কেন কোমরের বিছা হইলা না’ ‘সমাধি’ ছবির এই গানের সঙ্গে রুপালি পর্দায় নেচে উঠলেন একটি ছিপছিপে আনকোড়া মেয়ে, কিন্তু তার রূপের ঝলক আর অভিনয়ের ধার দর্শক-নির্মাতাকে মোহবিষ্ট করে ফেলে মুহূর্তেই। এরপর থেকেই শরু হয় শিশু শিল্পী বেবী হেলেন থেকে অভিনেত্রী সুচরিতার চলচ্চিত্র জীবনের গল্পের শুরু।

১৯৬৬ সালে ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে শিশু চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান সুচরিতা। তখন সুচরিতার নাম ছিল হেলেন। ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তিনি শিশু চরিত্রে আরও অভিনয় করেন ‘নিমাই সন্ন্যাসী’, ‘অবাঞ্ছিত’, ‘রং বেরং’, ‘টাকা আনা পাই’, কত যে মিনতি’, ‘রাজ মুকুট’, ‘বাবলু’সহ আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে। নায়িকা হিসেবে তার অভিনয়ের শুরুটা হয় ১৯৭২ সালে আজিজুর রহমানের নির্দেশনায় ‘স্বীকৃতি’ ছবিতে।

সুচরিতা ১৯৭৬ সালে ‘সমাধি’ ছবিতে রাজ রাজ্জাকের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন । তার নাম পরিবর্তন করে ফিল্মি নাম হয় ‘সুচরিতা’। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এরপর অশোক ঘোষের ‘মাস্তান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও দর্শকপ্রিয়তা পান এই নায়িকা।

১৯৭৭ সালে ‘যাদুর বাঁশি’ সিনেমায় অভিনয় করে সুচরিতা হয়ে ওঠেন নায়িকা হিসেবে বড় পর্দার ঝড়। ‘যাদুর বাঁশি’ হয়ে যায় কালজয়ী ছবি। এই ছবিতে সুচরিতার লিপসিংয়ের গান ‘যাদু বিনা বাঁশি বাজিতে পারে না’ জাতীয় পুরস্কারসহ আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা লাভ করে। আর ছবিটি ঢাকাই চলচ্চিত্রে এখনো সফল ছবির ইতিহাস হয়ে আছে। সেই যে শুরু হলো নায়িকা হিসেবে সুচরিতার সফল যাত্রা। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী।

সুচরিতার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘বজ্রমুষ্ঠি’র ‘জীবনে একজন প্রিয়জন সবারই প্রয়োজন’, ‘আঁখি মিলন’ চলচ্চিত্রের ‘আমার গরুর গাড়িতে’ গান দুটি ভীষণ জনপ্রিয়।

দুই হাজার সালের প্রথম দিকে আবার অভিনয়ে ফিরেন তিনি। বর্তমানে মা-খালার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করতে বেশি দেখা যায় তাকে। মায়াময় ফটোজেনিক চেহারা আর আকর্ষণীয় দেহবল্লরী তাকে শক্ত ভিত গড়ে দেয় ঢালিউডে। আশির দশক পর্যন্ত তিনি ছিলেন দেশের প্রথম সারির নায়িকা।

চিত্রনায়িকা সুচরিতার দিনকাল

আপডেট সময় : ০৭:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪

‘ও আমার রসিয়া বন্ধুরে, তুমি কেন কোমরের বিছা হইলা না’ ‘সমাধি’ ছবির এই গানের সঙ্গে রুপালি পর্দায় নেচে উঠলেন একটি ছিপছিপে আনকোড়া মেয়ে, কিন্তু তার রূপের ঝলক আর অভিনয়ের ধার দর্শক-নির্মাতাকে মোহবিষ্ট করে ফেলে মুহূর্তেই। এরপর থেকেই শরু হয় শিশু শিল্পী বেবী হেলেন থেকে অভিনেত্রী সুচরিতার চলচ্চিত্র জীবনের গল্পের শুরু।

১৯৬৬ সালে ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে শিশু চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান সুচরিতা। তখন সুচরিতার নাম ছিল হেলেন। ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তিনি শিশু চরিত্রে আরও অভিনয় করেন ‘নিমাই সন্ন্যাসী’, ‘অবাঞ্ছিত’, ‘রং বেরং’, ‘টাকা আনা পাই’, কত যে মিনতি’, ‘রাজ মুকুট’, ‘বাবলু’সহ আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে। নায়িকা হিসেবে তার অভিনয়ের শুরুটা হয় ১৯৭২ সালে আজিজুর রহমানের নির্দেশনায় ‘স্বীকৃতি’ ছবিতে।

সুচরিতা ১৯৭৬ সালে ‘সমাধি’ ছবিতে রাজ রাজ্জাকের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন । তার নাম পরিবর্তন করে ফিল্মি নাম হয় ‘সুচরিতা’। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এরপর অশোক ঘোষের ‘মাস্তান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও দর্শকপ্রিয়তা পান এই নায়িকা।

১৯৭৭ সালে ‘যাদুর বাঁশি’ সিনেমায় অভিনয় করে সুচরিতা হয়ে ওঠেন নায়িকা হিসেবে বড় পর্দার ঝড়। ‘যাদুর বাঁশি’ হয়ে যায় কালজয়ী ছবি। এই ছবিতে সুচরিতার লিপসিংয়ের গান ‘যাদু বিনা বাঁশি বাজিতে পারে না’ জাতীয় পুরস্কারসহ আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা লাভ করে। আর ছবিটি ঢাকাই চলচ্চিত্রে এখনো সফল ছবির ইতিহাস হয়ে আছে। সেই যে শুরু হলো নায়িকা হিসেবে সুচরিতার সফল যাত্রা। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী।

সুচরিতার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘বজ্রমুষ্ঠি’র ‘জীবনে একজন প্রিয়জন সবারই প্রয়োজন’, ‘আঁখি মিলন’ চলচ্চিত্রের ‘আমার গরুর গাড়িতে’ গান দুটি ভীষণ জনপ্রিয়।

দুই হাজার সালের প্রথম দিকে আবার অভিনয়ে ফিরেন তিনি। বর্তমানে মা-খালার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করতে বেশি দেখা যায় তাকে। মায়াময় ফটোজেনিক চেহারা আর আকর্ষণীয় দেহবল্লরী তাকে শক্ত ভিত গড়ে দেয় ঢালিউডে। আশির দশক পর্যন্ত তিনি ছিলেন দেশের প্রথম সারির নায়িকা।