চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ভারতে
- আপডেট সময় : ০৩:৫৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুন ২০২৩ ১৪৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
ভারতে চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে । ভারতের ওডিশার বালেশ্বরে এই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত, ২৮৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৮৫০ জনেরও বেশি মানুষ। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গ্যাস কাটারের সাহায্যে ট্রেনের দরজা ভেঙে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীকেও নামানো হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সহ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। বেলা সোয়া তিনটে নাগাদ হাওড়ার অদূরে শালিমার স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে করমণ্ডল এক্সপ্রেস। প্রায় চার ঘন্টা পরে, ২৩ বগির ট্রেনটি ওডিশার বালেশ্বরের বাহঙ্গা বাজারের কাছে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। তবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তার একাধিক বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, করমণ্ডল এক্সপ্রেস প্রথমে একই লাইনে প্রবল গতিতে চলমান একটি মালবাহী ট্রেনের পিছনে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন মালবাহী গাড়ির ওপরে উঠে যায়। ২৩টির মধ্যে ১৫টি বগি লাইন থেকে ছিটকে গিয়ে ডাউন লাইনে ও ড্রেনে গিয়ে পড়ে। তখন বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস পাশের সেই লাইন দিয়ে আসছিল। করমণ্ডল এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত যেসব বগি ডাউন লাইনের ওপর পড়েছিল, সেগুলোতে গিয়ে ধাক্কা মারে সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। ফলসরূপ, হাওড়াগামী সেই ট্রেনটিরও দু’টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
করমন্ডলের ইঞ্জিন যেভাবে মালবাহী গাড়ির উপরে উঠে গেছে তা কেবল পেছন থেকে সরাসরি আঘাত করলেই সম্ভব। পুলিশ সদস্যের প্রত্যক্ষদর্শী জবানবন্দিও তাই বলে।
তবে রেলওয়ে সূত্রের দাবি, মালগাড়ি ও করমণ্ডল এক্সপ্রেসের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। করমন্ডল এক্সপ্রেস প্রথমে কোন কারণে লাইনচ্যুত হয়। সেটি গিয়ে পড়ে পাশের ডাউন লাইনে। সেই লাইন ধরেই আসছিল সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। সেটি এসে করমন্ডলের লাইনচ্যুত বগিগুলোকে ধাক্কা মারে। সেই ধাক্কায় করমণ্ডলের ইঞ্জিন তৃতীয় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির ওপরে উঠে যায়।























