ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে মেয়ে হত্যায় মায়ের ফাঁসি

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ৭ বার পঠিত

শফিক কবীর, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জে শিউলী আক্তার মায়া (১০) নামের নিজ মেয়েকে হত্যার দায়ে মাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম.এ আফজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মোছাঃ আছমা আক্তার (৩৬) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের পূর্বচরপাড়া গ্রামের মো. সুরুজ মিয়ার মেয়ে।মামলার সূত্রে জানা যায়, ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আছমা আক্তার নিজের পছন্দমতো ২০০৮ সালে নাটোর জেলার আশরাফ উদ্দিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ২০১০ সালে তাদের ঘরে শিউলী আক্তার মায়া নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ২০১৩ সালে আছমা আক্তারের স্বামী আশরাফ উদ্দিন ঢাকা মহানগরীর মহাখালী এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়। পরে আছমা আক্তার তার মেয়ে শিউলী আক্তার মায়াকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে। ২০১৭ সালে পুনরায় আছমা আক্তারের গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এলাকার আব্দুল কাদেরের সাথে বিবাহ হয়। দ্বিতীয় বিয়ের পরও আছমা আক্তার তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকতেন ও নিহত শিউলি আক্তার মায়া স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে ৩য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। এদিকে আছমার স্বামী আঃ কাদের ১০/১৫ দিন পরপর শ্বশুর বাড়ি এসে ৩ থেকে ৪ দিন থাকতেন এবং আছমাও মেয়েকে নিয়ে মাঝে মাঝে আব্দুল কাদেরের বাড়িতে বেড়াতে যেত। তাদের সংসারে বিভিন্ন বিষয় নিয়া ঝগড়াঝাটি হত। এ কারণে ২ বছর আব্দুল কাদের শ্বশুর বাড়িতে আসেনি। তবে আছমা আক্তার তার মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়ীতে আসা যাওয়া করত। হঠাৎ একদিন আছমা আক্তার স্বামীর বাড়ি থেকে এসে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথাবার্তা বন্ধ করে দেন। ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তার ভাইয়ের শ্বাশুড়ী বাড়িতে এসে তাদের ঘরে ঢুকতে বাধা দেন আছমা। এ নিয়েও পরিবারের সদস্যদের সাথে মনোমালিন্য হয়। পরদিন সকালে তার ১০ বছর বয়সী শিউলী আক্তার মায়াকে স্কুল থেকে ডেকে এনে জোরপূর্বক ইদুঁর মারার একটি ট্যাবলেট খাওয়ান। পরে তার মা মনোয়ারা বেগম বাধা দিলে তাকে ধাক্কা দিয়ে এয়ারফোনের তার গলায় পেঁচিয়ে মেয়ে শিউলীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
এদিন রাতেই তার পিতা/ নিহত শিউলীর নানা সুরুজ মিয়া বাদী হয়ে মেয়ে আছমাকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান তদন্ত শেষে আছমাকে একমাত্র আসামি হিসেবে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পিপি আইনজীবী এম এ আফজাল এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাইফুল ইসলাম পলাশ।

কিশোরগঞ্জে মেয়ে হত্যায় মায়ের ফাঁসি

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩

শফিক কবীর, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জে শিউলী আক্তার মায়া (১০) নামের নিজ মেয়েকে হত্যার দায়ে মাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম.এ আফজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মোছাঃ আছমা আক্তার (৩৬) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের পূর্বচরপাড়া গ্রামের মো. সুরুজ মিয়ার মেয়ে।মামলার সূত্রে জানা যায়, ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আছমা আক্তার নিজের পছন্দমতো ২০০৮ সালে নাটোর জেলার আশরাফ উদ্দিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ২০১০ সালে তাদের ঘরে শিউলী আক্তার মায়া নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ২০১৩ সালে আছমা আক্তারের স্বামী আশরাফ উদ্দিন ঢাকা মহানগরীর মহাখালী এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়। পরে আছমা আক্তার তার মেয়ে শিউলী আক্তার মায়াকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে। ২০১৭ সালে পুনরায় আছমা আক্তারের গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর এলাকার আব্দুল কাদেরের সাথে বিবাহ হয়। দ্বিতীয় বিয়ের পরও আছমা আক্তার তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকতেন ও নিহত শিউলি আক্তার মায়া স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে ৩য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। এদিকে আছমার স্বামী আঃ কাদের ১০/১৫ দিন পরপর শ্বশুর বাড়ি এসে ৩ থেকে ৪ দিন থাকতেন এবং আছমাও মেয়েকে নিয়ে মাঝে মাঝে আব্দুল কাদেরের বাড়িতে বেড়াতে যেত। তাদের সংসারে বিভিন্ন বিষয় নিয়া ঝগড়াঝাটি হত। এ কারণে ২ বছর আব্দুল কাদের শ্বশুর বাড়িতে আসেনি। তবে আছমা আক্তার তার মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়ীতে আসা যাওয়া করত। হঠাৎ একদিন আছমা আক্তার স্বামীর বাড়ি থেকে এসে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথাবার্তা বন্ধ করে দেন। ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তার ভাইয়ের শ্বাশুড়ী বাড়িতে এসে তাদের ঘরে ঢুকতে বাধা দেন আছমা। এ নিয়েও পরিবারের সদস্যদের সাথে মনোমালিন্য হয়। পরদিন সকালে তার ১০ বছর বয়সী শিউলী আক্তার মায়াকে স্কুল থেকে ডেকে এনে জোরপূর্বক ইদুঁর মারার একটি ট্যাবলেট খাওয়ান। পরে তার মা মনোয়ারা বেগম বাধা দিলে তাকে ধাক্কা দিয়ে এয়ারফোনের তার গলায় পেঁচিয়ে মেয়ে শিউলীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
এদিন রাতেই তার পিতা/ নিহত শিউলীর নানা সুরুজ মিয়া বাদী হয়ে মেয়ে আছমাকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান তদন্ত শেষে আছমাকে একমাত্র আসামি হিসেবে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পিপি আইনজীবী এম এ আফজাল এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাইফুল ইসলাম পলাশ।