ঢাকা ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এলাকাবাসীর নিকট আজীবন ১০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রির ঘোষণা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩ ৫ বার পঠিত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
রমজান মাসে সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও এলাকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ মিলস্কেল রি-প্রসেস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা এলাকার কৃতি সন্তান মানবতার ফেরিওয়ালা এরশাদ উদ্দীন। এলাকায় গড়ে তুলেছেন জেসি এগ্রো ফার্ম নামে এক গরুর খামার। রমজান মাস উপলক্ষে তার খামারের সংগৃহীত দুধের পুরোটাই তিনি নাম মাত্র ১০ টাকা লিটারে বিক্রির ঘোষণা দেন। এর আগে বিগত দুই বছর যাবৎ এভাবে দুধ বিক্রি করে আসছেন তিনি। যে কেউ তার খামার থেকে নাম মাত্র ১০ টাকা লিটার দরে সর্বোচ্চ এক লিটার দুধ কিনতে পারবেন। বর্তমান বাজারে এখন প্রতি লিটার দুধ ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তাই মানুষের সেবায় তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
রোজার প্রথম দিন শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায় তার খামারে বিভিন্ন এলাকার শতাধিক হতদরিদ্র শিশু ও নারী পুরুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ ১০ টাকায়, আবার কেউ বিনামূল্যে দুধ সংগ্রহ করছেন সেখান থেকে। এরশাদ উদ্দিন বলেন, রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় অনেক কিছুই গরিব ও অসহায় মানুষের নাগালের বাইরে। চিন্তা করলাম, ব্যবসা তো সারা বছরই করি, এক মাস না হয় লাভ না করলাম। তাই আমার অবস্থান থেকে গত তিন বছর যাবৎ এই উদ্যোগ নিয়েছি। সেইসাথে আমি ও আমার খামার যতদিন আছে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতি রমজান মাসে সর্বোচ্চ ১০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি করবো ইনশাআল্লাহ।
এরশাদ উদ্দিন আরো জানান, খামারে দুগ্ধ ও মোটাতাজাকরণের ৪০০টির মতো গরু রয়েছে। এরমধ্যে ৬৫টি গাভী, তার মধ্যে ২৫টি গাভী নিয়মিত দুধ দিচ্ছে। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার দুধ পাওয়া যায়। প্রতি লিটার দূধ ১০ টাকা দরে পুরো রমজানে প্রায় দুই টনের অধিক দুধ বিক্রি করা যাবে এলাকাবাসীর কাছে।
দুধ পেয়ে,নিয়ামতপুর গ্রামের ৫০ বছর বয়সের অরবুলা খাতুন চোখের জলে আবেগী কন্ঠে বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। এই রোজার মাঝে ১০০ টেহাদেয়া দুধ কিন্নেয়া খাওয়ার কমতা আমরার নাই। এরশাদ ভাই ১০ টেহায় দুধ দিছে। এই দুধ দিয়েই আমরা সেহরি খায়া রোজা রাহাম। ফত্যেক গেরামঅ এমুন একটা এরশাদের জন্ম অউক। শুধু রোজার মাসেই না যেকোনো ঠেঁহা-বেঠেঁহায় এরশাদ ভাই আমরারে সাহায্য সহযোগিতা করে। আমার মনথাইক্যে দোয়াকরি আল্লায় এরশাদরে আরও বড় করুক।’

এলাকাবাসীর নিকট আজীবন ১০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রির ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
রমজান মাসে সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও এলাকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ মিলস্কেল রি-প্রসেস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা এলাকার কৃতি সন্তান মানবতার ফেরিওয়ালা এরশাদ উদ্দীন। এলাকায় গড়ে তুলেছেন জেসি এগ্রো ফার্ম নামে এক গরুর খামার। রমজান মাস উপলক্ষে তার খামারের সংগৃহীত দুধের পুরোটাই তিনি নাম মাত্র ১০ টাকা লিটারে বিক্রির ঘোষণা দেন। এর আগে বিগত দুই বছর যাবৎ এভাবে দুধ বিক্রি করে আসছেন তিনি। যে কেউ তার খামার থেকে নাম মাত্র ১০ টাকা লিটার দরে সর্বোচ্চ এক লিটার দুধ কিনতে পারবেন। বর্তমান বাজারে এখন প্রতি লিটার দুধ ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তাই মানুষের সেবায় তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
রোজার প্রথম দিন শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায় তার খামারে বিভিন্ন এলাকার শতাধিক হতদরিদ্র শিশু ও নারী পুরুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ ১০ টাকায়, আবার কেউ বিনামূল্যে দুধ সংগ্রহ করছেন সেখান থেকে। এরশাদ উদ্দিন বলেন, রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় অনেক কিছুই গরিব ও অসহায় মানুষের নাগালের বাইরে। চিন্তা করলাম, ব্যবসা তো সারা বছরই করি, এক মাস না হয় লাভ না করলাম। তাই আমার অবস্থান থেকে গত তিন বছর যাবৎ এই উদ্যোগ নিয়েছি। সেইসাথে আমি ও আমার খামার যতদিন আছে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতি রমজান মাসে সর্বোচ্চ ১০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি করবো ইনশাআল্লাহ।
এরশাদ উদ্দিন আরো জানান, খামারে দুগ্ধ ও মোটাতাজাকরণের ৪০০টির মতো গরু রয়েছে। এরমধ্যে ৬৫টি গাভী, তার মধ্যে ২৫টি গাভী নিয়মিত দুধ দিচ্ছে। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার দুধ পাওয়া যায়। প্রতি লিটার দূধ ১০ টাকা দরে পুরো রমজানে প্রায় দুই টনের অধিক দুধ বিক্রি করা যাবে এলাকাবাসীর কাছে।
দুধ পেয়ে,নিয়ামতপুর গ্রামের ৫০ বছর বয়সের অরবুলা খাতুন চোখের জলে আবেগী কন্ঠে বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। এই রোজার মাঝে ১০০ টেহাদেয়া দুধ কিন্নেয়া খাওয়ার কমতা আমরার নাই। এরশাদ ভাই ১০ টেহায় দুধ দিছে। এই দুধ দিয়েই আমরা সেহরি খায়া রোজা রাহাম। ফত্যেক গেরামঅ এমুন একটা এরশাদের জন্ম অউক। শুধু রোজার মাসেই না যেকোনো ঠেঁহা-বেঠেঁহায় এরশাদ ভাই আমরারে সাহায্য সহযোগিতা করে। আমার মনথাইক্যে দোয়াকরি আল্লায় এরশাদরে আরও বড় করুক।’