ইসরায়েল আক্রমণের জেরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননের নিষেধাজ্ঞা
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ৫৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। মঙ্গলবার ।। ০৩.০৩.২০২৬ ।।
ইসরায়েলের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক হামলার পর দেশের ভেতরে সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লেবানন সরকার। প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম ঘোষণা দিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে কোনো সংগঠনের সামরিক কার্যক্রম আর সহ্য করা হবে না। একইসঙ্গে হিজবুল্লাহ–র রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) রাজধানী বৈরুত–এর প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে অনুষ্ঠিত জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব নিশ্চিত করতে সরকারি সেনাবাহিনীর বাইরে সব ধরনের সশস্ত্র তৎপরতা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ ও শান্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার কেবল রাষ্ট্রের হাতে থাকবে। বৈধ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে পরিচালিত যেকোনো সামরিক অভিযান কঠোরভাবে দমন করা হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে যে, সমান্তরাল সামরিক শক্তির অবসান চায় সরকার। এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র হয়ে ওঠা উত্তেজনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ১ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলমুখী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে হওয়া যুদ্ধবিরতি সমঝোতার পরিপন্থী পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম শুরু থেকেই এই উদ্যোগকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করে আসছিলেন যে, এমন কর্মকাণ্ড লেবাননকে আবারও বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সরকারের এই অবস্থান হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের প্রভাব ও আধিপত্যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।আন্তর্জাতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে লেবাননের সার্বভৌম কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: Agence France-Presse (এএফপি)
























