ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির কথা বললেন ট্রাম্প, যুদ্ধ থামাতে ওয়াশিংটনের ১৫ দফা প্রস্তাব
- আপডেট সময় : ১২:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৭৪ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ২৫ মার্চ ২০২৬ ।।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘গুরুত্বপূর্ণ ছাড়’ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধ থামাতে ওয়াশিংটন ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরের ‘উপযুক্ত ব্যক্তিদের’ সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তার দাবি, ইরানও একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং আলোচনায় সক্রিয় রয়েছে। তবে তেহরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কালিবাফ ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার খবরকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য এক মাসের যুদ্ধবিরতির কথাও বিবেচনায় রয়েছে। রয়টার্সের একটি সূত্র প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক বহির্ভূত জ্বালানি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে, যদিও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচল কার্যত সীমিত করে দেয়। বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থাকে দেওয়া এক নোটে ইরান জানিয়েছে, অ-বৈরি জাহাজগুলো তাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। এদিকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চললেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরান ও তার মিত্রদের পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। একাধিক সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কয়েক হাজার সেনা পাঠাতে পারে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। নতুন সেনা মোতায়েন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহী। ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরদিনই তার এ বক্তব্য আসে। সোমবার ট্রাম্প জানান, ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার প্রেক্ষিতে ইরানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শেহবাজ শরীফ বলেন, চলমান সংলাপ প্রচেষ্টার প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ আলোচনার আয়োজন করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত। পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য একটি বৈঠকের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং তা হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক উষ্ণ হয়ে উঠেছে।


























