আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন কমেছে ৯৫ শতাংশ
- আপডেট সময় : ০১:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০২৩ ২০২ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আফগানিস্তান ছিল বিশ্বে আফিম উৎপাদনে শীর্ষ দেশ। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বর্তমান সরকার নিষিদ্ধ করার পর থেকে দেশটিতে আফিমের ফলন প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।
ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সারা দেশে আফিম চাষ ২৩৩,০০০ হেক্টর থেকে কমে ১০,৮০০ হেক্টরেরও কম হয়েছে। আফিম উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৯৫ শতাংশ কমে ৩৩৩ টন হয়েছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে এটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশে কৃষকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে, যেখানে বেশিরভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং পপি (আফিম/পোস্ত) রপ্তানির মূল্য কখনও কখনও সমস্ত আনুষ্ঠানিক রপ্তানি পণ্যের মূল্যকে ছাড়িয়ে গেছে। তালেবানের নীতিগত পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে দেশটির অর্থনীতিতে। দেশটির বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশর ইতিমধ্যেই মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।
ইউএনওডিসির নির্বাহী পরিচালক ঘাদা ওয়ালি একটি বিবৃতিতে বলেছেন যে আফগানিস্তানে আফগানিস্তানের কৃষকদের আফিম ছাড়াতে এবং টেকসই জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম করার জন্য আগামী মাসে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা ২০২২ সালের এপ্রিলে মাদক চাষ নিষিদ্ধ করেছিলেন। এর আগে, ২০০০ সালে যখন তালেবানরা ক্ষমতায় ছিল, তারা আফিম চাষ নিষিদ্ধ করেছিল। আফিম চাষকে ‘অ-ইসলামিক’ আখ্যা দিয়ে তৎকালীন তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমর বলেছিলেন যে কেউ পপি বীজ লাগালে তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও তহবিল পাওয়ার কৌশল হিসেবে তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে একসময় দেশটির অর্ধেকেরও বেশি আফিম চাষ হতো। তবে তালেবান নিষেধাজ্ঞার পর থেকে আফিম চাষ কমে গেছে। এখন গমকেও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পপি চাষ কমে যাওয়ায় একই অঞ্চলে গম চাষ বেড়েছে, কিন্তু লাভ কম হওয়ায় দরিদ্র কৃষকরা তা গ্রহণের সম্ভাবনা কম বলে মনে হচ্ছে।
























