আজ জয়-পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেবে আদালত
- আপডেট সময় : ১১:৩৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ১১০ বার পঠিত

বাংলাদেশ কণ্ঠ।। বুধবার।। ২১.০১.২০২৬
আজ (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে। এই মামলায় প্রসিকিউশনের দাবি, এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ আজ অভিযোগ গঠন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। গত ১৫ জানুয়ারি, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত আজকের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
শুনানিতে, পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয় পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম উপস্থিত ছিলেন। তারা আদালতকে জানান যে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই এবং জয়-পলকের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে কিছুই পাওয়া যায়নি। এজন্য তারা তাদের ক্লায়েন্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করার এবং অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে, রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন এবং বিচার শুরুর আবেদন করেছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগগুলো বেশ গুরুতর। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত ৮টা নাগাদ, সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনায়েদ আহমেদ পলক ফেসবুকের মাধ্যমে দেশব্যাপী উসকানি দেন, যার ফলস্বরূপ ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই হামলার মূল দায়িত্ব ছিল পুলিশ, আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনীর। পুলিশের সহায়তায় সংঘটিত হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন আন্দোলনকারী নিহত হন। একইসঙ্গে, পলক ও জয় ইন্টারনেট বন্ধ করে এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা দিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে তারা হত্যাযজ্ঞে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
এছাড়া, পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ১৪ জুলাই রাতে জয় এর নির্দেশে আন্দোলনকারীদের উসকানি দিয়েছিলেন, যার ফলে এ ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, ৩৪ জনের হত্যাকাণ্ডে তাদের ভূমিকা থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এই মামলায় জয় ও পলকের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ১০ ডিসেম্বর আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার উদ্দেশ্যে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরদিন, পলককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি আদালতে হাজির হন।





















